ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট সময়মতো করোনার টিকা না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন। তিনি বলেছেন, ‘সরকার অগ্রিম যে টাকা দিয়েছে সে অনুযায়ী টিকা দেবে না, তা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের স্পষ্ট ভাষায় বলা উচিত- অগ্রিম টাকা অনুযায়ী টিকা আমাদের দিতে হবে। দেড় কোটি ভ্যাকসিনের টাকা দিয়েছি। সেটা আটকানোর কোনো অধিকার সেরামের নেই।’ গতকাল শনিবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।
পাপনের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন গতকাল বলেছেন, শক্ত স্টেপটা কী? আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের পরররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। তিনি বলেছেন, ‘এটি দেওয়া হবে। তবে এ মুহূর্তে একটি ডিসরাপশন (ছন্দপতন) হচ্ছে।’
পাপন বলেন, দেড় কোটি ডোজ টিকার জন্য অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছে। টিকা এসেছে ৭০ লাখ ডোজ। এখনো ৮০ লাখ ডোজ টিকা সেরাম ইনস্টিটিউট দেয়নি। সরকারের উচিত এই টিকার জন্য জোরালোভাবে বলা। বাংলাদেশে সেরাম ইনস্টিটিউটের টিকা আনার ব্যাপারে এজেন্টের কাজ করছে বেক্সিমকো ফার্মা। সরকার অগ্রিম যে টাকা দিয়েছে, সে অনুযায়ী টিকা দেবে না, তা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তাছাড়া ভারত যে বাংলাদেশের বন্ধু, সেটা এখন বিবেচনা করার সময় এসেছে। মিষ্টি কথায় সব চলবে না। ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুব পরিষ্কার করে বলেছেন— চুক্তি অনুযায়ী দেওয়া হবে, কিন্তু কিছুটা ডিসরাপশন হচ্ছে। কারণ, দেশের চাহিদা এখন অনেক বেশি এবং আমরা অন্য দেশকেও পাঠাতে পারছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেটা করতে পারি সেটা হচ্ছে— ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে পারি।’
