ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার জন্য পরামর্শ

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ১১:২৯ পিএম

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া অনেকটা বিজ্ঞান শাখার জন্য বুয়েট বা সরকারি মেডিকেলে চান্স পাওয়ার অনুরূপ। অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় চান্স পাওয়ার স্বপ্ন সবারই থাকে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে যারা এইচএসসি পাস করে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করে। শিক্ষার্থী বন্ধুরা তোমরা জানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় চূড়ান্ত মেধা তালিকা নির্ণয়ে এসএসসি ও এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএ যোগ করা হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে তোমরা ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারোনি বলে হতাশ হবে না। বিশেষ করে এসএসসিতে যারা কাক্সিক্ষত জিপিএ পাওনি তারা হয়তোবা আশা করেছিলে এইচএসসিতে আরও ভালো করে পড়াশোনা করে জিপিএ বৃদ্ধি করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মেধাস্কোরে নিজেকে এগিয়ে রাখবে। তবে তোমাদের জন্য আশার সংবাদ হলো যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের ভর্তি পরীক্ষায় এসএসসি ও এইচএসসি থেকে মাত্র ২০ নম্বর যোগ হবে। অর্থাৎ ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে যে মেধাস্কোর করা হবে তাতে ভর্তি পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের ওপর এবং এসএসসি ও এইচএসসি থেকে মাত্র ২০ নম্বর যোগ হবে। এর ফলে এসএসসি বা এইচএসসি পর্যায়ে কাক্সিক্ষত ফলাফল অর্জিত না হলেও তুমি যদি ভর্তি পরীক্ষায় ভালো স্কোর অর্জন করতে পারো তাহলে মেধা তালিকায় স্থান করে নিতে পারবে, যা তোমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নপূরণ করবে। তাই শেষ মুহূর্তে পড়াশোনায় একটু বেশি সময় দিয়ে জোরেশোরে প্রস্তুতি গ্রহণ করো। তোমাদের বোঝার সুবিধার্থে বিষয়টি নিচে তুলে ধরা হলো

এসএসসির প্রাপ্ত জিপিএী২ ১০*

এইচএসসির প্রাপ্ত জিপিএী২           ১০*

বহুনির্বাচনী          ৬০

লিখিত পরীক্ষা     ৪০

মোট      ১২০

* কোনো শিক্ষার্থী যদি এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে থাকো তাহলে ভর্তি পরীক্ষার মেধাস্কোরে তার (৫ী২)=১০ যোগ হবে, যদি জিপিএ ৪.৭৫ পেয়ে থাকো তাহলে ভর্তি পরীক্ষার মেধাস্কোরে তার (৪.৭৫ী২)=৯.৫০ যোগ হবে, এইচএসসিও অনুরূপ।

         বিষয় নির্বাচন

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৬টি বিষয়ের ওপর প্রশ্ন থাকবে, তোমাকে ৫টি বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা এই ৪টি বিষয়ের প্রশ্ন আবশ্যিকভাবে উত্তর করতে হবে। এ ছাড়া ‘ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা’ এবং ‘উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন’ এই দুটি বিষয়ের ওপর প্রশ্ন থাকবে, তোমাদের যেকোনো একটি বিষয়ের উত্তর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যদি তোমরা দুটি বিষয়েই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারো, তাহলে পরীক্ষার হলে যে বিষয়টি সহজ মনে হবে সেটি উত্তর করতে পারবে। এখানে আরও একটি বিষয় তোমাদের খেয়াল রাখতে হবে ‘ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা’ এবং ‘উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন’ এ দুটি বিষয়ের মধ্যে বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর যে বিষয়ের ওপর করবে, লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নও সে বিষয়ের ওপরই করবে, ভুল যেন না হয়।

         বহুনির্বাচনী ও লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

প্রতিটি বিষয়ে ১২টি করে মোট (১২দ্ধ৫) ৬০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকবে, সবগুলো প্রশ্নেরই উত্তর করতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান হবে ১। তবে প্রতিটি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। অর্থাৎ প্রতি ৪টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের ভুল উত্তরের জন্য ১ নম্বর কাটা যাবে। এজন্য যে বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর তোমরা পারবে না বা সন্দেহজনক মনে হবে সেগুলো উত্তর করবে না। প্রথমত, যে প্রশ্নের উত্তরগুলো সম্পর্কে তুমি নিশ্চিত সেগুলো আগে উত্তর করে ফেলবে অতঃপর অবশিষ্ট সময়ের ওপর ভিত্তি করে বাকি প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে। বহুনির্বাচনী ও লিখিত প্রশ্নের জন্য বইয়ের সবগুলো অধ্যায় ভালো করে পড়তে হবে। তার মধ্যে হিসাবজ্ঞিানের জন্য ব্যাংক সমন্বয় বিবরণী, প্রাপ্য হিসাবসমূহের হিসাবরক্ষণ, কার্যপত্র, দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদের হিসাবরক্ষণ, আর্থিক বিবরণী, অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের হিসাব, অংশীদারি ব্যবসায়ের হিসাব, আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ, উৎপাদন ব্যয় হিসাব ও ব্যয়ের শ্রেণিবিভাগ অধ্যায়গুলো ভালো করে পড়বে। ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ের মৌলিক ধারণা, অংশীদারি ব্যবসায়, যৌথ মূলধনী ব্যবসায়, সমবায় সমিতি, ব্যবসায়ের আইনগত দিক, ব্যবসায়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যবস্থাপনার ধারণা, ব্যবস্থাপনার নীতি, সংগঠিতকরণ, নেতৃত্ব, প্রেষণা ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়গুলো ভালো করে পড়বে।

ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা বিষয়ের ক্ষেত্রে অর্থায়নের সূচনা, আর্থিক বাজারের আইনগত দিকসমূহ, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অর্থায়ন, মূলধন বাজেটিং, ঝুঁকি ও মুনাফার হার, ব্যাংক ব্যবস্থার প্রাথমিক ধারণা, হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল, ইলেকট্রনিক ও আধুনিক ব্যাংক, বীমা সম্পর্কে মৌলিক ধারণা, জীবন বীমা, নৌবীমা ও বিবিধ বীমা অধ্যায়গুলো ভালো করে পড়বে। উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিষয়ের ক্ষেত্রে উৎপাদনের মাত্রা, পণ্য ডিজাইন, মান ব্যবস্থাপনা, বিপণন পরিচিতি, বাজার বিভক্তীকরণ ও বিপণন মিশ্রণ, পণ্য ও পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, পণ্যবণ্টন প্রণালি, বিক্রয় প্রসার ও বিজ্ঞাপন, ব্যক্তিক বিক্রয় ও বিক্রয়িকতা, বিপণনের সমসাময়িক বিষয়াবলি অধ্যায়গুলো ভালো করে পড়বে।

সবশেষে তোমাদের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করি এবং তোমাদের জন্য রইল শুভ কামনা।

মুহাম্মদ আরিফুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত