দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমতির দিকে থাকলেও মৃত্যু প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে। গত রবিবার দেশে পঞ্চমবারের মতো ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১০০ ছাড়ানোর পরদিন গতকাল সোমবার ৯৭ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ দিন ও ৩৬ নারীর মৃত্যু হয়েছে। এদিন মৃতদের ৮০ জনই ছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং ৬৩ জন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এর আগে গত ১৬-১৯ এপ্রিল টানা চার দিন দেশে শতাধিক করে করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। তার পর থেকে মৃত্যু কিছুটা কমতে শুরু করে। টানা তিন দিন মৃত্যু নব্বইয়ের ঘরে থাকার পর দুই দিন আশির ঘরে নামে। কিন্তু এর মাঝে গত রবিবার হঠাৎ মৃত্যু আগের দিনের ৮৩ থেকে বেড়ে ১০১ জনে ওঠে। এরপর গতকালও প্রায় কাছাকাছি রোগীর মৃত্যু হলো।
মৃত্যুর এমন উত্থান-পতনের মধ্যে শনাক্ত হারও গত রবিবার হঠাৎ সামান্য বাড়ে। কিন্তু গতকাল তা আবারও কমেছে। গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৩৫ দিনের মধ্যে সর্বনি¤œ। এর আগে গত ২২ মার্চ এরচেয়ে কম হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এদিন শনাক্ত হার কমলেও পরীক্ষা বেশি হওয়ায় রোগী শনাক্ত আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২৫ হাজার ৭৮৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ৩০৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা ও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুটোই গত তিন দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ।
গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪১৪তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে ৩৫০টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৪টি জিন-এক্সপার্ট, ১৯৪টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন এবং ১২২টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২৫ হাজার ৮৬৪ জনের। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ২৫ হাজার ৭৮৬ জনের, যার মধ্যে ১ হাজার ৯১৯টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ৫৩ লাখ ৭১ হাজার ২৮৭টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৮ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১১ হাজার ১৫০ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ২৪১ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছে ৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৯৩ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও সুস্থতার হার ৮৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৬১ ও নারী ৩৬ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮১ পুরুষ ও ২ হাজার ৯৬৯ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৩ দশমিক ৩৭ ও নারী ২৬ দশমিক ৬৩ ভাগ। এদিন সর্বোচ্চ ৬৩ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রামে ১২, খুলনা ও সিলেটে ৬ জন করে, রাজশাহীতে ৪, বরিশালে ৩, রংপুরে ২ এবং ময়মনসিংহে ১ জন মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৫৯, ৫১-৬০ বছরের ২১, ৪১-৫০ বছরের ১০, ৩১-৪০ বছরের ৪, ২১-৩০ বছরের ২ এবং ১১-২০ বছরের ছিলেন ১ জন। এদিন ৪৯ জন সরকারি হাসপাতালে, ৪৪ জন বেসরকারি হাসপাতালে, ৩ জন বাড়িতে এবং ১ জন হাসপাতালে আসার পথে মারা গেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৯৭ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ২ হাজার ৮৫ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৯ হাজার ৫০৮ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৩ হাজার ৪৫০ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১২ হাজার ২৯৮টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিলেন ৪ হাজার ৮১০টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ১ হাজার ৬৯টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিলেন ৬৮৫টিতে।
