পাবনা সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুল

সিঁড়ি ভেঙে জায়গা বিক্রি বন্ধ, অনিয়ম তদন্তে জেলা প্রশাসন

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৪১ এএম

পাবনার ঐতিহ্যবাহী সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুল ভবনের সিঁড়ি ভেঙে জায়গা বিক্রির প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে স্কুলে উপস্থিত হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন। এ সময় স্কুলের দোকান, সম্পদ বিক্রি ও ভাড়াসংক্রান্ত যাবতীয় আর্থিক কাগজপত্র দ্রুততম সময়ে জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে স্কুল ভবনের সিঁড়ি ভেঙে দোকান নির্মাণ করে তা বিক্রির অভিযোগ ওঠে স্কুলটির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবু ইছাহাক শামীমের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তৎপর হয় প্রশাসন। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী প্রায় শতবর্ষী পাবনা সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুলের সভাপতি আবু ইছাহাক শামীম স্বেচ্ছারিতা ও দুর্নীতির মাধ্যমে স্কুলের সম্পদ বিক্রি করছেনÑ গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল দুপুরে সরেজমিন ঘুরে মূল ফটকের পাশে নতুন সিঁড়ির নির্মাণকাজ করতে দেখা যায়। এ সময় আমরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে এ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেই। স্কুল সভাপতি ঢাকায় থাকায় দ্রুততম সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বক্তব্য জানাতে যথাযথ কাগজপত্রাদিসহ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে তাকে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক তালেবুর রহমান বলেন, ‘গতকাল দুপুরে শিক্ষা অফিসার উপস্থিত হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিলে আমরা শ্রমিকদের বিদায় করে দিয়েছি। সভাপতি মহোদয় ফিরলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশানুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী সেন্ট্রাল গার্লস স্কুলের পরিচালনা পরিষদের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ইতিমধ্যে সিঁড়ি ভেঙে জায়গা বিক্রির প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির সব অভিযোগের তদন্ত করা হবে।’

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পাবনার প্রায় শতবর্ষী সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুল দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু পরিচালনা পরিষদের দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন আওয়ামী লীগ নেতা আবু ইছাহাক শামীম। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি অর্থ কিংবা ভবন নির্মাণে বরাদ্দপ্রাপ্তির সুযোগ থাকলেও এটি নির্মাণের দায়িত্ব একটি বাণিজ্যিক কোম্পানিকে দেন তিনি। সম্প্রতি করোনার কারণে বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকার সুযোগে মূল ফটকের পাশে প্রশস্ত প্রধান সিঁড়িসহ সুবিশাল জায়গা বিক্রির জন্য ‘খাবার বাড়ি’ নামে একটি রেস্টুরেন্টের সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত