সদ্য ঘোষণাকৃত হেফাজতে ইসলামের আহ্বায়ক কমিটিকে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।
তিনি বলেছেন, একেক করে যখন তাদের উইকেট পতন হয়েছিল তখনই তারা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এসব করে পার পাওয়া যাবে না। হেফাজতের যারা মাদ্রাসা ও মসজিদকে কলংকিত করেছে, মাদ্রাসা ও মসজিদের পবিত্রতা রক্ষায় তাদের আর মাদ্রাসা ও মসজিদে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। তাদেরকে আমরা সাফ জানিয়ে দিতে চাই, কোনো দুষ্কৃতকারীকে আর সুযোগ দেওয়া যাবে না।
গতকাল সোমবার দুপুরে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বালেন্দাতে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ চিত্রকর্মের ‘শস্য কর্তন’ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
হেফাজতের এই নেতাদের মসজিদ-মাদ্রাসায় ঢুকতে দেওয়া হবে না জানিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, হেফাজতের যারা মাদ্রাসাকে কলংকিত করেছে, বায়তুল মোকাররম মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করেছে, তাদেরকে আর মাদ্রাসায় ও মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
দেশের লকডাউন নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আপনি সব হারিয়ে পাগলের প্রলাপ বকছেন। এই পাগলের প্রলাপ বাংলাদেশের মানুষ আর গ্রহণ করে না। দেশের জনগণ বিএনপিকে বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। আর এর জন্যই বিএনপি নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে ধ্বংসে মত্ত চালিয়েছে। বিএনপি, জামায়াত আর হেফাজত একেক সময় একেক রূপ নেয়। আর এটা বাবুনগরী-মামুনুল হকের নতুন লেবাসেই প্রকাশ পেয়েছে।
এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, এ দেশের ধর্মব্যবসায়ী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তিকে আদর্শিক চিন্তা-চেতনার মধ্য দিয়ে মোকাবিলা করব। এই সব ধর্মব্যবসায়ী, অশুভ শক্তি, যারা মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছিল, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল, তারাই আজকে দেশকে সাম্প্রদায়িকতার মূলে, দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে, তরুণ সমাজকে বিপদগ্রস্ত করছে। ধর্মকে কাজে লাগিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
‘তারা কখনো বিএনপি, কখনো জামায়াত, কখনো শিবির, আবার এখন হেফাজতে ইসলামের নামে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। ধর্মকে ব্যবহার করে এই হেফাজতিরা বিরাজনীতিকরণের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।’
হেফাজতকে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা করোনাভাইরাসের চেয়ে ভয়ংকর। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করি।’
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘আজকে হেফাজতে ইসলামের নামে যারা বিরোধিতা করছেন, তারা মূলত জামায়াত-বিএনপির হেফাজতকারী। তারা ইসলামের হেফাজতকারী নয়, তারা ধর্মব্যবসায়ী। আমাদের লড়াই হচ্ছে এই শক্তির বিরুদ্ধে।
‘মুক্তিযুদ্ধে, ১৯৭৫ সালের হত্যাকা- ও ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলার পৃষ্ঠপোষকদের অনুসারীই আজকের বাবুনগরী-মামুনুল হক। এই হেফাজতিরা তারেক রহমানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যস্ত। আসুন এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।’
‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ জাতীয় পরিষদের আহ্বায়ক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শ্যামল, কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্র চন্দ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, সহ-সভাপতি ম. আবদুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগিবুল হাসান রিপুসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
