করোনায় আয় হারিয়ে লোকসানে ‘দি ওয়েস্টিন’ হোটেল

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৫৭ এএম

মহামারী করোনায় দেশের অধিকাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পর্যটন-হোটেল ব্যবসায়। করোনার কারণে এ খাতের আয় অন্যান্য সময়ের তুলনায় আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হোটেলগুলোতেও একই ধারা দেখা গেছে। আয় হারিয়ে তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসানে পড়েছে ওয়েস্টিন হোটেলের মালিকানায় থাকা ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড। এ সময় হোটেলটির নিট লোকসান হয়েছে ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ৩৪ কোটি টাকারও বেশি নিট মুনাফা ছিল।

এদিকে চলমান করোনার মধ্যেই ব্যবসা বহুমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস। হোটেল ব্যবসার পাশাপাশি কোম্পানিটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র করার উদ্যোগ নিয়েছে। মেঘনা নদীর তীরে আরও দুই কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ৫৮৪ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র করার উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানিটি।  

রাজধানীতে ‘দি ওয়েস্টিন’ নামে পাঁচ তারকা মানের হোটেল ব্যবসা রয়েছে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসের। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান এভিনিউতে অবস্থিত ওয়েস্টিন হোটেলটি ২০১৯ সালেও ভালো ব্যবসা করেছে। তবে ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে ব্যবসা মন্দা চলছে। গত বছরের টানা ৬৬ দিনের ‘লকডাউনের’ পর ব্যবসা চালু থাকলেও গত জুলাই থেকে আয় আশঙ্কাজনক হারে কমছে।

করোনায় ওয়েস্টিন হোটেলের আয় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। এতে করে করপোরেট অফিস পরিচালনার ব্যয়, প্রশাসনিক ও অন্যান্য ব্যয় মেটানোর পর কোম্পানিটি লোকসান করছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক থেকেই হোটেলটি লোকসানে রয়েছে। দেশে এখন করোনা সংক্রমণ বাড়ায় এবং সরকার নতুন করে ‘লকডাউন’ দেওয়ায় হোটেল ব্যবসায় ধস নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইউনিক হোটেলের চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে হোটেলটির আয় হয়েছে ৫০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যা আগের হিসাব বছরের নয় মাসের তুলনায় ৬৭ শতাংশ কম। আগে হিসাব বছরের নয় মাসে হোটেলটির আয় হয়েছিল ১৫২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আয় কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কোম্পানিটি করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিকে দায়ী করেছে।

প্রাথমিক ব্যয় মেটানোর পর চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে (জুলাই ২০ থেকে মার্চ ২১) ইউনিক হোটেলের মোট আয় হয় ৩২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ১১৭ কোটি টাকা। প্রশাসনিক ও অন্যান্য ব্যয় মেটানোর পর চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা হয় ১২ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৭৯ কোটি টাকা। চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে ইউনিক হোটেলের করপোরেট অফিসের ব্যয় হয় ২৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এতেই কোম্পানিটি পরিচালন লোকসানে পড়ে।

যদিও এ সময়ে বিভিন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে মূলধনী মুনাফা হয় ১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য খাত থেকে ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা ও ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানত থেকে ৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা সুদ বাবদ আয় এসেছে। বিপরীতে ব্যাংকঋণের বিপরীতে প্রায় ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা সুদ বাবদ ব্যয় করতে হয়েছে। এ ছাড়া করিম অ্যাসোসিয়েটসসহ অন্যান্য পাওনার বিপরীতে ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়েছে, যা মুনাফায় বড় প্রভাব ফেলেছে। এতে করে চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে ইউনিক হোটেল ২ কোটি ৯১ লাখ টাকা কর-পূর্ববর্তী লোকসানে পড়ে, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ৫৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার কর-পূর্ববর্তী মুনাফায় ছিল। কর পরিশোধের পর চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে ইউনিক হোটেলের নিট লোকসান হয়েছে ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ৩৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়েছিল।

এদিকে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই ইউনিক হোটেল ব্যবসা বহুমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও মেঘনাঘাটে ইউনিক হোটেলের নিজস্ব জমিতে ৫৮৪ মেগাওয়াটের গ্যাস/এলএনজিভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট করার ঘোষণা দেয় ইউনিক হোটেল। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নাম হবে ‘ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ার প্ল্যান্ট’। এরই অংশ হিসেবে মেঘনাঘাটে ইউনিক হোটেলের ১ হাজার ৩২ ডেসিমিল জমি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। উক্ত জমির মূল্য ধরা হয়েছে ৯৪ কোটি ৪৮ লাখ ৩৮ হাজার ১৫০ টাকা। জমি মূল্যের বিপরীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৫টি শেয়ার ইউনিক হোটেলের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স লিমিটেড (এসএফএল) এবং জিই ক্যাপিটাল গ্লোবাল এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস বিভি’র সঙ্গে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড যৌথভাবে পাওয়ার প্ল্যান্টটি তৈরি করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত