ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব

দুই হেফাজত নেতা গ্রেপ্তার, ২০ মাদ্রাসাছাত্র বহিষ্কার, ওসি বদলি

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২১, ০৩:২৪ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সাম্প্রতিক তা-বের ঘটনায় সংগঠনটির দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে জেলার আশুগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার দাতিয়ারা থেকে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন আশুগঞ্জ উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মুফতি ওবায়দুল্লাহ এবং সদর উপজেলার সাকেদকপুর ইউনিয়ন ছাত্র ওলামা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ চলা ধ্বংসলীলা ও তা-বের ঘটনায় হেফাজত ও কওমি মাদ্রাসার কেউ জড়িত নয় বলে বারবার দাবি করা হলেও এবার দায় স্বীকার করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজত ও কওমিপন্থিদের প্রধান প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা। ঘটনার এক মাসের মাথায় তাণ্ডবে জড়িত থাকার দায়ে ২০ ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে মাদ্রাসার কর্র্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে হেফাজতি তাণ্ডবের এক মাস পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি আবদুর রহিমকে বদলি করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক আদেশে তাকে পুলিশের রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়।

গ্রেপ্তার দুই হেফাজত নেতার মধ্যে মুফতি ওবায়দুল্লাহ আশুগঞ্জ জামিয়া ইসলামিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও আশুগঞ্জ বাজার বড় মসজিদের খতিব। আর মোজাম্মেল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার দাতিয়ারা ওয়াপদা মসজিদের খতিব।

আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. জাবেদ মাহমুদ জানান, আশুগঞ্জ বাজারের জামিয়া ইসলামিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা থেকে মুফতি ওবায়দুল্লাহকে আটক করা হয়। গত ২৮ মার্চ ওবায়দুল্লাহ ও তার অনুসারীরা আশুগঞ্জের বাদশা বাড়ির মোড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধ করেন। এছাড়াও ওবায়দুল্লাহর উসকানিতে আশুগঞ্জের টোল প্লাজার কাউন্টার ভাঙচুর ও লুটপাট, টোলপ্লাজা পুলিশ ক্যাম্পে আগুন, আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু নাছেরের বাড়িতে হামলাসহ বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা চালানো হয়।

গ্রেপ্তার ওবায়দুল্লাকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওসি মো. জাবেদ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ইশতিয়াক আহমেদ জানান, সদর থানা পুলিশ গত সোমবার রাতে হেফাজত নেতা মোজাম্মেলকে ওয়াপদা এলাকা থেকে আটক করে। তাকে গত ২৮ মার্চ হরতাল চলাকালে শহরের টিএ রোড এলাকায় থানা ব্রিজ ভাঙচুর ও সদর থানায় হামলার ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বিকেলে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

হেফাজতের তাণ্ডবে জড়িত ২০ মাদ্রাসাছাত্রকে বহিষ্কার : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ চলা ধ্বংসলীলা ও তা-বের ঘটনায় হেফাজত ও কওমি মাদ্রাসার কেউ জড়িত নয় বলে বারবার দাবি করা হলেও এবার দায় স্বীকার করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজত ও কওমিপন্থিদের প্রধান প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা। ঘটনার এক মাসের মাথায় তাণ্ডবে জড়িত থাকার দায়ে ২০ ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে মাদ্রাসার কর্র্তৃপক্ষ। গত সোমবার রাতে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা সচিব মুফতি শামছুল হক সরাইলী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিটি অল্প সময়ের মধ্যেই ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সবার নজরে আসে।

বহিষ্কৃত ছাত্ররা হলেন আশেকে এলাহী, আবু হানিফ, মিছবাহ উদ্দিন, আশরাফুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, মকবুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম, মুবারক উল্লাহ, বুরহানুদ্দীন, আবদুল্লাহ আফজাল, জুবায়ের, হিজবুল্লাহ রহমানী, শিব্বির আহমেদ, জুবায়ের, ইফতেখার আদনান, সাইফুল ইসলাম, সোলাইমান, রাকিব বিল্লাহ, তারিক জামিল ও হাবিবুল্লাহ।

বহিষ্কার আদেশে বলা হয়, ‘ভর্তি পালনীয় শর্তাবলির ২৫নং ধারায় মাদ্রাসার সমুদয় রীতিনীতি ও আইনকানুন অমান্য করে হুজুরদের বাধাকে উপেক্ষা করে গত ২৬ মার্চ সরকারি স্থাপনায় আক্রমণ করার সংবাদ পাওয়ার ভিত্তিতে তাদের বহিষ্কার করা হলো।’

জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আবদুল হক বলেন, ‘মাদ্রাসার শিক্ষকদের আদেশ না শুনে, বাধা না মেনে সরকারি স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুর করায় ওই ছাত্রদের বহিষ্কার করা হয়েছে।’

সদর থানার ওসি বদলি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ওসি আবদুর রহিমকে বদলি করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডবের এক মাস পূর্ণ হওয়ার দিনই তাকে বদলি করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক আদেশে আবদুর রহিমকে পুলিশের রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) রইছ উদ্দিন ওসি রহিমের বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়াজুড়ে ধ্বংসলীলা চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় সরকারি-বেসরকারি অর্ধশতাধিক স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-লুটপাট-অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশের কাছে সহায়তা চেয়ে না পাওয়ার অভিযোগসহ হেফাজতের তাণ্ডবের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠে। এরপর থেকে বিভিন্ন মহল থেকে সদর থানার ওসির অপসারণ দাবি করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত