প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার পিল আনছে বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি ফাইজার। সম্প্রতি ফাইজারের সিইও অ্যালবার্ট বুরলা সিএনবিসি চ্যানেলের এক সাক্ষাৎকারে জানান, তারা মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন দেওয়া যায় এমন দুটি ওষুধ আগামী বছরের মধ্যেই বাজারে আনবেন। করোনা প্রতিরোধে বাজারে এখন শুধুই টিকা প্রচলিত আছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ এলে তা মহামারী মোকাবিলায় বিশাল পদক্ষেপ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাক্ষাৎকারে অ্যালবার্ট বলেন, ‘আমরা এখন দুটি ওষুধ নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নে কাজ করছি। এর মধ্যে একটি মুখে খাওয়া ও অন্যটি ইনজেকশন দেওয়া। মুখে খাওয়ার ওষুধটির প্রতি আমাদের জোর বেশি। কারণ, ট্যাবলেট জাতীয় ওষুধ বের করা হলে তা বিশ্বের মানুষের জন্য ভালো হবে। ট্যাবলেট বের করা গেলে মানুষকে আর হাসপাতালমুখী হতে হবে না চিকিৎসার জন্য। করোনার চিকিৎসা তখন ঘরে বসেই নেওয়া সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক চললে এবং আমরা যে গতিতে এগোচ্ছি তাতে আশা করছি চলতি বছরের শেষেই আমরা এই ওষুধ বাজারে আনতে পারব। এক্ষেত্রে আমরা যে গতি নিয়ে এগোচ্ছি রেগুলেটরদেরও সেই গতি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’ এখন পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার একমাত্র যে ওষুধটি অনুমোদিত, সেটি হলো রেমডেসিভির। এই ওষুধটি গিলেদ সায়েন্সের তৈরি। গত অক্টোবরেই যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) রেমডেসিভিরকে পুরোপুরি অনুমোদন দেয় জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য।
ফাইজার আশা করছে তাদের তৈরি করা মুখে খাওয়ার ওষুধটি করোনার বেশ কয়েকটি ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকরী হবে। কভিড-১৯ কীভাবে কাজ করছে, এর রূপান্তরের প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করেই ওষুধটি তৈরির পথে রয়েছে ফাইজার। এ বিষয়ে সিইও অ্যালবার্ট বলেন, ‘এই ওষুধটি কেমন কাজ করবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে বলতে হচ্ছেÑ ওষুধটি একাধিক ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকরী হবে। এটা আমাদের সবার জন্য ভালো সংবাদ। আমরা এখন গবেষণার মধ্যে আছি, গ্রীষ্মজুড়েই আমরা ওষুধটির উন্নয়নের বিভিন্ন ধাপের বিস্তারিত মানুষের সামনে নিয়ে আসব।’
করোনায় এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ দক্ষিণ এশিয়ার ভারত। দিনে তিন লাখ সংক্রমণের রেকর্ড করেছে দেশটি। ভারতের রাজধানী দিল্লির করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। শহরটিতে করোনায় মৃতদের সৎকারে পার্কে পর্যন্ত স্থান তৈরি করতে হচ্ছে।
