রোজায় চোখের চিকিৎসা

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২১, ১১:২৫ পিএম

গ্লুকোমা, রেটিনোপ্যাথিসহ চোখের কয়েক ধরনের রোগ আছে। এ ধরনের রোগ হলে রোগীকে সবসময় ওষুধ নিতে হয়। এছাড়া সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলোআপ করাতে হয়। রমজানে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের বিধিনিষেধে অনেক রোগী চোখের ফলোআপ করাতে পারছেন না। এক্ষেত্রে পরবর্তী ফলোআপে না যাওয়া পর্যন্ত আগের ওষুধ খেতে হবে এবং নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রয়োজনে টেলিমেডিসিনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

চোখে ওষুধ

রমজানের সময় চোখে ওষুধ দিলে রোজা ভাঙে না। রোজা মূলত ভাঙে পাকস্থলীতে কোনো খাবার উপাদান গেলে অথবা বমি হলে। সাধারণত চোখে অল্প পরিমাণে ড্রপ দেওয়া হয় বলে পাকস্থলী পর্যন্ত এটি পৌঁছায় না। তাই রোজায় কোনো ক্ষতি হয় না। যদি বেশি সমস্যা যেমন হঠাৎ করে চোখ লাল হয়ে যায়, তখন জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করতে হবে।

নিয়ম

চোখে ড্রপ ব্যবহারের কিছু নিয়ম আছে। সর্বোচ্চ চারবার চোখে ড্রপ দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে সময় মেইনটেইন করতে হবে। একটা ড্রপ নেওয়ার ৫ মিনিট পর আরেকটা ড্রপ দিতে হবে। এছাড়া ড্রপ দেওয়ার পর নাক চেপে ধরে দুই মিনিট শুয়ে থাকতে হবে। এতে নাক দিয়ে গলায় ড্রপের পানি চলে যাবে না।

রোজায় অপারেশন

রোজা রেখেও চোখের ছানি ও গ্লুকোমার মতো অস্ত্রোপচার করা যায়। কিছু অস্ত্রোপচারে অবশ্য রক্তক্ষরণ হয়। যেমন স্ট্যার্নাল অপারেশন। এতে রোজা ভেঙে যায়। অনেক অস্ত্রোপচারে রক্তপাতের আশঙ্কা না থাকলেও শরীরের ভেতরের জলীয় অংশ এবং অন্যান্য টিস্যু শরীর থেকে বের হয়ে আসে বলে রোজা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জরুরি অস্ত্রোপচার, যেমন ফেকোলাইটিক গ্লুকোমা বা কোনো আঘাতের ঘটনা হলে রোজা ভেঙে তা করতে হবে। কর্নিয়া সংযোজন অনেক সময় কর্নিয়াপ্রাপ্তির ৬ ঘণ্টার মধ্যে করতে হয়। নইলে কর্নিয়ার গুণ নষ্ট হয়ে যায়। তবে কম জরুরি অস্ত্রোপচারগুলো চিকিৎসকের পরামর্শে রোজার পরেও করা যায়।

ইনজেকশন

ইনজেকশনে যদি খাদ্য উপাদান থাকে অথবা তা যদি শক্তিবর্ধক হয়, তবে রোজা রেখে তা নেওয়া যাবে না। খাদ্য উপাদান না থাকলে অর্থাৎ অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যাভাস্টিন-জাতীয় ইনজেকশন হলে রোজার সময় নেওয়া যাবে। তাৎক্ষণিকভাবে ইনজেকশন না নিলে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার বা অন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকলে ইনজেকশন অবশ্যই নিতে হবে। পরীক্ষার প্রয়োজনে ইনজেকশন নিতে হলে (যেমন-চোখের ফান্ডাস ফ্লোরেসেন্স এনজিওগ্রাম করতে হলে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ রক্তনালিতে দিতে হয়) তা ইফতারের পর করতে পারেন। শিরায় ইনজেকশন পুশ করার সময় রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে। তাছাড়া অনেকের হাইপার সেনসিটিভিটি রিয়েকশন হতে পারে। তখন আবার একাধিক ইনজেকশন, এমনকি স্যালাইনও দিতে হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত