কংগ্রেস অধিবেশনে ভাষণ

আমেরিকা আবার সামনে এগিয়ে যাচ্ছে : বাইডেন

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২১, ১১:৪৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, সংকট কাটিয়ে তার দেশ আবার স্বপ্ন দেখছে। সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিন উপলক্ষে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, ভাষণে বাইডেন আমেরিকান পরিবারের জন্য ১৮০ হাজার কোটি ডলারের নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। আর এ ব্যয় নির্বাহে করপোরেশন ও ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। বিতর্কিত ইস্যুতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের তার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান বাইডেন।

বাইডেনের ভাষণের সময় রিপাবলিকানরা নীরব ছিলেন। তবে ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হাততালি দেন। প্রথা অনুযায়ী বাইডেন বক্তব্যের আগে-পরে আইনপ্রণেতাদের দিকে এগিয়ে যান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুশল বিনিময় করেন।

গত ৬ জানুয়ারির হামলার কথা মাথায় রেখে এদিন ক্যাপিটল হিলসহ ওয়াশিংটন ডিসিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বাইডেনই প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি দুজন নারী নেত্রীকে পেছনে রেখে জাতির সামনে কংগ্রেসে ভাষণ দেন।

কংগ্রেসে যৌথ অধিবেশনে পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। আর প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি প্রেসিডেন্টকে অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানান। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ‘ম্যাডাম ভাইস প্রেসিডেন্ট’ সম্বোধন করে তার বক্তৃতা শুরু করেন।

বাইডেন করোনা মহামারী মোকাবিলায় তার প্রশাসনের প্রয়াসের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দেশের ৫ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা স্মরণ করে তিনি দেশবাসীকে আশার বাণী শোনান। অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য ফিরে আসছে, কর্মসংস্থান বাড়ছে উল্লেখ করে বাইডেন বলেন, ‘আমেরিকা আবার জেগে উঠছে। এখন মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

বৈদেশিক নীতির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, আমেরিকা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে নিজেদের অবস্থান অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী সক্রিয় থাকবে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আমেরিকার ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপের পরিণতি তাকে (পুতিন) ভোগ করতে হবে।’ ইরান ও উত্তর কোরিয়াকেও সতর্ক করেন তিনি। তবে বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে চীনের প্রতি হুঁশিয়ারি ছুড়ে দেন তিনি।

মানবাধিকার, বাণিজ্যে অসমতার মতো বিভিন্ন ইস্যুতে চীনকে চাপে রাখতে ব্যাপক পরিসরে বেশ কয়েকটি আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান বাইডেন। চীনের হুমকি মোকাবিলায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোরও অঙ্গীকার করেন।

চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতাই যে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ, বাইডেন স্বীকার করে বলেন, ‘চীনের যে অন্যায় বাণিজ্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ও শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা আমেরিকা রুখে দাঁড়াবে।’

শ্বেতাঙ্গ রক্ষণশীলতা জঙ্গিবাদের মতো উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকান সমাজে বৈষম্যের অবসানে কাজ করতে হবে। পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক ও বিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত