দৃশ্যপটের বাইরে থেকে একেবারে মূল মঞ্চে শরিফুল ইসলাম। তিন পেসার খেলার পক্ষে ছিল বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। তাই বলে এবাদতকে সরিয়ে শরিফুল খেলবেন এটা ভাবা যায়নি। দ্বিতীয় টেস্টের দিন সকালেই চমক হয়ে এলো ১৯ বছর বয়সী পেসারের অভিষেক। প্রাথমিক দল-মূল দল হয়ে এই তরুণ নিজের প্রথম সিরিজেই বাংলাদেশের ৯৭তম টেস্ট ক্রিকেটার হয়ে গেল। আর তার হাত ধরেই হতাশার প্রথম দিনে ঘেরাটোপে এক চিলতে হাসি পেল বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের বলে ২৮ রানে জীবন পাওয়া দিমুথ করুনারতেœকে ১১৮ রানে থামিয়েছেন তিনি। এই আনন্দ ছাড়া পুরো দিনে উইকেটের দেখা নেই বাংলাদেশের। প্রথম টেস্টের মতো আরও একটি মরা পিচে তাই লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের রান উৎসব চলল। ১ উইকেটে ২৯১ রানে দিন শেষ করেছে তারা। তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি করে লাহিরু থিরিমান্নে অপরাজিত আছেন ১৩১ ও ওশাদা ফার্নান্ডো ৪০ রানে।
টস জিতে দ্বিতীয়বার না ভেবেই ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হকও জানালেন টস ভাগ্য নিজের পক্ষে গেলে ব্যাটিংই নিতেন। কেন, তা প্রমাণ হলো দিনের খেলায়। শুরুতে নতুন বলে কিছু সুইং পাচ্ছিলেন আবু জায়েদ রাহি, তাসকিন আহমেদ। দুজনই লঙ্কান দুই ওপেনারকে সমস্যায় ফেলেন কয়েকবার। কিন্তু মুমিনুল হকের কী মনে হলো, এমন অবস্থাতেও বল দিলেন মেহেদি হাসান মিরাজকে। এর কিছু পর আনলেন শরিফুলকে। তাসকিন ও রাহিকে বলের কাজ দেখানোর যথেষ্ট সময়টা দিলেন না। তবুও এই তাসকিনের বলেই প্রথম সুযোগ এলো। গত টেস্টে ২৪০ রান করা করুনারতেœকে হাফসেঞ্চুরির আগেই থামানোর সুযোগ ছিল। সিরিজে অসাধারণ তাসকিনের করা দলীয় ২০তম ওভারের শেষ বলে ২৮ রানে থাকা করুনারতেœ জীবন পান। একমাত্র সিøপ ফিল্ডার নাজমুল হাসান শান্তর বুক সমান উচ্চতায় সরাসরি ক্যাচ গেলেও তা হাতে রাখতে পারেননি। সুযোগ পেয়ে ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি করা লঙ্কান অধিনায়ক ছুটছিলেন আরেকটি দ্বিশতকের দিকে। ৬৪ ওভারের প্রথম বলে শরিফুল থামান করুনারতেœকে। অফস্ট্যাম্পেরর বাইরের বলে কাট করতে গিয়ে লিটন দাশের হাতে ক্যাচ দেন।
১১৮ রানে ফেরার আগেই বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে গেছেন করুনারতেœ থিরিমানেকে সঙ্গে নিয়ে। ঘরের মাঠে ২০০০ সালের পর এই প্রথম শ্রীলঙ্কাকে ২০০ ছাড়ানো উদ্বোধনী জুটি উপহার দেন তারা। আগেরটি ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে সনাৎ জয়াসুরিয়া ও মারভান আতাপাত্তুর ৩৩৫ রান। এছাড়া করুনারতেœ ছুঁয়েছেন ৫ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক আর থিরিমান্নে ২ হাজারের। এ দুজনই আবার এ বছর টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় দুই ও তিন নম্বরে। গত সাত ইনিংসে ৬টি হাফসেঞ্চুরি করা থিরিমান্নে ১২ ইনিংসে ৬৪৮ রান নিয়ে আছেন দ্বিতীয়তে। তিনে থাকা করুনারতেœ ৮ ইনিংসে করেছেন ৫৫৮ রান। ১২ ইনিংসে ৭৯৪ রান নিয়ে জো রুট আছেন শীর্ষে। ২০১১ সালে শুরু ক্যারিয়ারের ৯ম টেস্টে, বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন থিরিমান্নে (১৫৫*)। গত জানুয়ারিতে একই মাঠে (গল) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরি (১১১)। এরপর ৭ ইনিংসে ৫০ ঊর্ধ্ব রানের পর আবার সেঞ্চুরি করলেন তিনি।
এই থিরিমান্নের বিরুদ্ধে দিন শেষের ৫ বল আগে শরিফুলই আউট করে দিয়েছিলেন প্রায়। তার আবেদনে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা এলবিডব্লিউ দিয়েছিলেন। কিন্তু থিরিমান্নে সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নিলে দেখা যায় বল উইকেটের ওপর দিয়ে যেত। তাই দ্বিতীয় উইকেট বঞ্চিত হন শরিফুল।
