হেফাজত নেতা হারুন ইজহার গ্রেপ্তার

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২১, ০২:১২ এএম

হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুফতি হারুন ইজহারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭। গত বুধবার গভীর রাতে তাকে নগরীর খুলশী থানাধীন জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া লালখান বাজার মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল জানান, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে নাশকতা হয়েছে, তাতে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেওয়ার অভিযোগে মুফতি হারুন ইজহারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মুফতি হারুন ইজহার বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর বড় ছেলে এবং চট্টগ্রামের লালখান বাজারের জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক। হারুনের বাবা লালখান বাজারের জামিয়াতুল মাদ্রাসাটির পরিচালক। তিনিও একসময় হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ছিলেন।

২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর লালখান বাজারের জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে গ্রেনেড বানানোর সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণে দুজনের মৃত্যু হয়। এরপর সেখানে অভিযান চালিয়ে গ্রেনেডসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। খুলশী থানায় বিস্ফোরক ও এসিড আইনে দুটি মামলা হয়, যাতে ইজহারুল ইসলাম ও তার ছেলে হারুনকে আসামি করা হয়। পরে ওই বছরের ৯ অক্টোবর হাটহাজারীর ইছাপুর থেকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর এক সহযোগীর আশ্রয় থেকে হারুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিস্ফোরক ও এসিড আইনের দুই মামলাতেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল আদালতে।

লালখান বাজার মাদ্রাসায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামীর (হুজি)’ কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও উঠেছিল। মাদ্রাসাটি লালখান বাজার এলাকায় পাহাড়ে অবস্থিত। মাদ্রাসার পাহাড়ের পেছন থেকে ২০০৯ সালের ৪ নভেম্বর লস্কর-ই-তৈয়বার সন্দেহভাজন দুই বিদেশি জঙ্গিসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন হারুন। ঢাকায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলা পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে। ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে লালখান বাজার মাদ্রাসা থেকেই মুফতি ইজহারকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। পরে তিনি ছাড়া পান।

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা ও আল-কায়েদার সঙ্গে ইজহারের সম্পৃক্ততার তথ্য বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এসেছিল। এছাড়া হারুন ইজহারের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদী কর্মকান্ডের জন্য অর্থ সংগ্রহ, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তালেবানের পক্ষে আফগান যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত