রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ‘ঘুষ’ না দেওয়ায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) এক ছাত্রী এবং তার স্বজনরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার হাসপাতালটির করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাবি, চা-নাস্তার টাকার নামে তাদের কাছে ঘুষ দাবি করে আহসান হাবিব নামে হাসপাতালটির এক কর্মচারী। কিন্তু টাকা দিতে আপত্তি জানানোয় ওই ছাত্রী ও তার স্বজনদের ওপর চড়াও হয় সে।
হেনস্তার শিকার ওই ছাত্রী বলেন, ‘গত সোমবার রাত ১১টার দিকে বাবাকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সিসিইউ-১-এর বি-১৬ নম্বর বেডে ভর্তি করাই। কিন্তু গেটে ঢোকা থেকে শুরু করে হুইলচেয়ারে ওয়ার্ডে নিয়ে আসা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই চা-নাস্তার নামে টাকা দাবি করে সেখানকার কর্মচারীরা। এরই মধ্যে গত বুধবার বাবাকে রিলিজ দেওয়া হলে প্রেসক্রিপশন দেওয়ার নামে তিনজন ওয়ার্ড কর্মচারী আমাদের কাছে টাকা দাবি করেন। কিন্তু টাকা দিতে আপত্তি জানালে হুট করে হাবিব নামে এক কর্মচারী এসে আমাদের ওপর চড়াও হয়। ওই সময় আমি ভিডিও করতে চাইলে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সে। এর আগে গত ১০ মার্চ আমার মা হৃদরোগের সিসিইউতে মারা যান। তখনো গেটম্যান, কর্মচারীরা টাকার জন্য হয়রানি করে। এ দুই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি।’
ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকা ওই ছাত্রীর বন্ধু সাজেদুল বলেন, ‘আমরা পরিচালককে সবকিছু জানাব’ বলতেই হাবিব বলে, ‘জাহান্নামে যা। যা যা, যা করার করিস।’
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনীত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবিব। তিনি বলেন, ‘আমরা এ ধরনের আচরণ করতে পারি না। আমাদের এক স্টাফের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বসে সমাধান করে দিছেন।’
এ বিষয়ে শেকৃবির প্রক্টর ড. মো. হারুন-অর-রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা লিখিত অভিযোগ জানাব।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রথমত পরিচালককে লিখিত অভিযোগ জানাতে হবে। এরপর আমাদের কাছে জানালে আমরা ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেব।’
