ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে টোকিও অলিম্পিকে অংশ গ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে সাঁতারু আরিফুল ইসলামের। অবশ্য তার এই অংশ গ্রহণ এক রকম নিশ্চিতই ছিল। কারণ ২০১৮ সাল থেকেই অলিম্পিকের বৃত্তি নিয়ে ফ্রান্সে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন তিনি। তারপরও যেটুকু অনিশ্চয়তা ছিল সেটা দূর হয়েছে। বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশন ওয়াইল্ড কার্ডের জন্য তার নাম আন্তর্জাতিক সাঁতার ফেডারেশনে চূড়ান্ত করেছে।
স্বাভাবিকভাবেই এই খবরে খুশি আরিফ। তবে সরাসরি কোয়ালিফাই করতে পারলে এই আনন্দ বেশি হতো বলে জানলেন তিনি। রবিবার ফ্রান্স থেকে দেশ রূপান্তরকে নিজের অনুভূতি জানান আরিফ। ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে দেশের অন্যতম সেরা এই সাঁতারু বলেন, ‘অবশ্যই এটা অনেক খুশির খবর। তবে সরাসরি কোয়ালিফাই করে যেতে পারলে আরো ভালো লাগত।’
যোগ করেন, ‘বৃত্তি নিয়ে ফ্রান্সে আসার পর থেকেই এই লক্ষ্য নিয়ে ট্রেনিং করে গেছি। করোনাভাইরাস না আসলে বিশ্বাস ছিল আমার হয়ে যাবে।’
করোনার আগে নিজের টাইমিংয়েও বেশ ভালো উন্নতি করেছিলেন আরিফ। যা তাকে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী করেছিল, ‘২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এক বছরে আমি টাইমিং ৫ সেকেন্ড কমিয়ে ফেলেছিলাম। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দেশে ছুটি কাটালাম। ফ্রান্সে ফেরার পর মার্চ থেকেই তো করোনার হানা দিল। এরপর থেকে ট্রেনিংই বন্ধ ছিল অনেক দিন।’
অলিম্পিকে ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে সাঁতরাবেন আরিফ। এর আগে লন্ডন প্রবাসী সাঁতারু জুনাইনা আহমেদেরও অলিম্পিকে অংশ গ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। তিনিও সাঁতরাবেন ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল ইভেন্টে।
অলিম্পিকে লক্ষ্যের কথা জানতে চাইলে আরিফ বললেন, ‘নিজের সেরা টাইমিং ও অলিম্পিকে বাংলাদেশের সেরা যে টাইমিং রয়েছে, সেটা ব্রেক করতে পারলেই হবে।’
তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ গেমসে খেলে গেছেন আরিফ। সেখানে তার পারফরম্যান্স সংশ্লিষ্ট অনেকেরই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। প্রকাশ্যে সমালোচনাও হয়েছে তার। আরিফ অবশ্য এসবে কর্ণপাত করছেন না।
‘অনেকে সুইমিং না বুঝেই মন্তব্য করে। এটা মানুষের কাজই। এটা কানে দিই না। উনাদের দরকার উনারা বলে গেছে। আমি সামনে ভালো করতে পারলেই হল।’- বলেন আরিফ।
