মহামারীতে বিপর্যস্ত ভারতে এক দিনেই শনাক্ত হলো ৪ লাখের বেশি রোগী। গত শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে শনাক্ত হয় ৪ লাখ ১ হাজার ৯৯৩ জন। ওই মৃত্যু হয় ৩ হাজার ৫২৩ জনে। প্রথমবারের মতো দৈনিক সংক্রমণ ৪ লাখ ছাড়ানোর পর দিনই অবশ্য সেই সংখ্যা কমে শনিবার ৩ লাখ ৯২ হাজার হয়েছে। এক দিনের ব্যবধানে শনাক্ত কিছুটা কমলেও এদিন মৃত্যু বেড়েছে দেশটিতে। শনিবার ভারতে রেকর্ড ৩ হাজার ৬৮৮ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাবে গতকাল রবিবার ভারতের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৩ লাখ ১৯ হাজারের বেশি রোগী। আর মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৬০১ জনের।
গতকালের নতুন এই রোগী নিয়ে ভারতে মোট শনাক্ত ছাড়িয়েছে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৬৯ হাজার। রোগী শনাক্তে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে মোট মারা গেছে ২ লাখ ১৮ হাজার ১২৪ জন।
ভারতে নতুন শনাক্তের হিসাবে দেশটির রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় মহারাষ্ট্র। এ রাজ্যে শনিবার ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হয় ৬২ হাজার ৯১৯ জন, মারা গেছে ৮২৮ জন রোগী। এছাড়া কর্নাটকে ৪৮ হাজার ২৯৬ জন, কেরালায় ৩৭ হাজার ১৯৯ জন রোগী শনাক্ত হয়। সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা ছয়টি রাজ্যে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত যথাক্রমে মহারাষ্ট্রে ৪৬ লাখ ২ হাজার ৪৭২ জন, কেরালায় ১৫ লাখ ৭১ হাজার ১৮৩ জন, কর্নাটকে ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ১১৮ জন, উত্তরপ্রদেশে ১২ লাখ ৫২ হাজার ৩২৪ জন, তামিলনাড়–তে ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪ জন এবং দিল্লিতে ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৬ জন।
দৈনিক সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে রোগীর সংখ্যা বাড়ায় স্বাস্থ্য পরিষেবাতে তৈরি হয়েছে বিপুল চাহিদা। হাসপাতালে শয্যার পাশাপাশি অক্সিজেনের অভাব প্রকট হয়েছে। এই মুহূর্তে ভারতে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৩২ লাখ ৬৮ হাজার ৭১০ জন। এই পরিস্থিতিতেই দেশে চলছে টিকাদান; যদিও গত কয়েকদিনে টিকা দেওয়া হয়েছে খুবই কম।
তবে শনিবার থেকে মহামারীর ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে করোনাভাইরাস টিকা দিতে শনিবার গণটিকাদান শুরু করেছে ভারত সরকার।
যদিও করোনাভাইরাস মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে মুমূর্ষু কয়েকটি রাজ্যে টিকার মজুদই নেই। ভ্যাকসিনের ঘাটতির কারণে মুম্বাই শহরের সব টিকাদান কেন্দ্র শুক্রবার থেকে তিনদিন বন্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাটের প্রধান বাণিজ্যনগরী আহমেদাবাদে টিকা নেওয়ার জন্য শত শত লোককে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এর মধ্যে গভীর রাতে সেখান থেকে প্রায় দুশো মাইল দূরের একটি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ কভিড রোগী ও দুজন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
১৫ এপ্রিল থেকেই দেশটিতে দৈনিক দুই লাখের বেশি নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া শুরু করে। এক সপ্তাহ আগে দৈনিক সংক্রমণ তিন লাখের ঘর ছাড়িয়ে যায়।
আক্রান্ত আর মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি জনস্বাস্থ্যের সংকট তৈরি করায় ভারত সরকার বিদেশ থেকে অক্সিজেন, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিস সংগ্রহের চেষ্টা করতে বাধ্য হয়।
এদিকে শনিবার ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১২ হাজার ৪৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৭ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৯০৬ জন রোগী। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে মোট ১৫ কোটি ২৭ লাখ ৯২ হাজার ৪১২ জন। এরমধ্যে মারা গেছেন ৩২ লাখ ৬ হাজার ৪৯ জন। আর এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৩ কোটি ৭১ হাজার ৯৫৩ জন।
বিশ্বে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৩ কোটি ৩১ লাখ ৪৬ হাজার ৮ জন। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার ৭০৪ জনের। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। ল্যাটিন আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৫ জন। এরমধ্যে মারা গেছেন ৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬৫ জন। চতুর্থ স্থানে থাকা ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৫৬ লাখ ৪২ হাজার ৩৫৯ জন রোগী। এরমধ্যে মারা গেছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৭০৬ জন। শনাক্তের দিক দিয়ে এখন পঞ্চম স্থানে তুরস্ক। দেশটিতে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৪৮ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৮ জন। এরমধ্যে মারা গেছেন ৪০ হাজার ৫০৪ জন। এছাড়া তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রাশিয়া, সপ্তম স্থানে যুক্তরাজ্য, অষ্টম স্থানে ইতালি, নবম স্থানে স্পেন এবং দশম স্থানে রয়েছে জার্মানি।
