প্রতি টিকায় বেক্সিমকোর লাভ ৭৭ টাকা

আপডেট : ০৩ মে ২০২১, ০২:৩৯ এএম

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকায় ভর করে চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বড় অঙ্কের মুনাফা করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। এই প্রান্তিকে কোম্পানিটির পণ্য বিক্রির পরিমাণ বাড়লেও মুনাফায় উল্লম্ফন ঘটেছে মূলত টিকা বিতরণের লাভ থেকে। এ সময়ে ৫০ লাখ টিকা বিতরণ করে বেক্সিমকো ফার্মার আলাদা লাভ হয়েছে ৩৮ কোটি টাকারও বেশি। প্রতি টিকায় প্রায় ৭৭ টাকা নিট মুনাফা হয়েছে। এতে করে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়েছে ৪১ শতাংশ।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা বাংলাদেশে আমদানির জন্য চুক্তিবদ্ধ একমাত্র প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। বাংলাদেশ সরকার, সেরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মার মধ্যে সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় এ টিকা আমদানি করা হচ্ছে। ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, বেক্সিমকো ফার্মা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ করোনার টিকা আনবে। প্রতি মাসে ৫০ লাখ টিকা সরবরাহের চুক্তি রয়েছে সেরামের সঙ্গে। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতের পরিস্থিতি ব্যাপক মাত্রায় অবনতির কারণে সে দেশের সরকার সাময়িকভাবে টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে চুক্তি থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টিকা সরবরাহ করতে পারেনি সেরাম।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তিন কোটি ডোজ টিকার মধ্যে কোম্পানিটি ৭০ লাখ টিকা সরকারকে সরবরাহ করতে পেরেছে। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৫০ লাখ টিকার আয় হিসাবে যুক্ত হয়েছে। বাকি ২০ লাখ টিকা এপ্রিলে সরবরাহ করা হয়েছে। তাই সেই আয় এ প্রান্তিকের হিসাবে যুক্ত হয়নি।

গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে বেক্সিমকো ফার্মা জানিয়েছে, সরকারকে ৫০ লাখ করোনার টিকা সরবরাহ করে কোম্পানিটি ৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। সব খরচ বাদ দেওয়ার পর এ মুনাফা করেছে কোম্পানিটি। তাতে প্রতি টিকায় মুনাফার পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৬ টাকা ৭৪ পয়সা বা প্রায় ৭৭ টাকা।

এদিকে সরকারকে করোনার টিকা সরবরাহের মাধ্যমে বেক্সিমকো ফার্মার অন্যান্য আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। এ সময় ওষুধ রপ্তানি বাড়ায় সরকারের কাছ থেকে নগদ সহায়তার পরিমাণও বেড়েছে। সুদবাবদ ব্যয়ও কমেছে।

বেক্সিমকো ফার্মার চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই, ২০ থেকে মার্চ, ২১) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ সময় কোম্পানির পণ্য বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। চলতি হিসাববছরের ৯ মাসে বেক্সিমকো ফার্মার মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ২৭ কোটি টাকা। এ সময় পরিচালন মুনাফা হয়েছে প্রায় ৫২০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪২৩ কোটি টাকা।

চলতি হিসাববছরের ৯ মাসে বেক্সিমকো ফার্মার অন্যান্য আয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৫০ লাখ করোনার টিকা সরবরাহ থেকে ৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং ওষুধ রপ্তানি থেকে নগদ সহায়তা বাবদ ২২ কোটি ৮১ লাখ টাকা রয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানির অন্যান্য আয় ছিল ১৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সুদবাবদ ব্যয়, লভ্যাংশে কর্মীর হিস্যা ও কর পরিশোধের পর চলতি হিসাববছরের ৯ মাসে কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছে ৩৭০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪৭ কোটি টাকা। চলতি হিসাববছরের ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ২৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ২ পয়সা। একই সময়ে ডিএসইতে প্রায় ২৯০ শতাংশ বেড়েছে কোম্পানিটির শেয়ারদর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত