ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশকে বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে, তা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল রবিবার সিলেট জোনের বিআরটিসি ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয় সংসদ এলাকার বাসভবন থেকে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন মন্ত্রী।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন করোনাভাইরাসকে বোঝা বড়ই মুশকিল। প্রায় চলেই গিয়েছিল। সেই করোনা এখন ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের কী অবস্থা। একটি বেডের ও অক্সিজেনের জন্য হাহাকার। হাসপাতালে যাওয়ার আগেই মানুষ মারা যাচ্ছে। তাদের শ্মশান ও কবরস্থান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পার্কে পর্যন্ত মরদেহ দাহ করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিবেশী ভারতের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে। এই বিপজ্জনক বার্তা থেকে বাংলাদেশকে শিক্ষা নিতে হবে। আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। হাত ধোয়া ও মাস্ক যথাযথভাবে পরলে করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাব।’
করোনা টিকার জন্য উদ্বেগের কোনো কারণ নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘টিকা যেটা ঘাটতি পড়বে, সেটা পূরণেও সরকার ইতিমধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। আতঙ্কিত হওয়া কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো একজন মানবিক নেত্রী যখন পাশে আছে, তখন এই দুঃসময় একদিন কেটে যাবে ইনশা আল্লাহ।’
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, কভিডের কারণে যে লকডাউন চলছে, তাতে করে রাস্তায় কাজ করার একটা সুযোগ ছিল। সামনে লকডাউনের পরে যানবাহন চলাচলে সরকার সক্রিয়ভাবে চিন্তাভাবনা করছে। তাই যে সময়ে রাস্তাগুলো ফাঁকা, সেই সময়ে কাজ করতে অনেক সুবিধা।
সেতুমন্ত্রী বলেন, গতকাল পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে ভায়াডাক্টের সর্বশেষ গার্ডার স্থাপনের মধ্য দিয়ে পুরো সেতুর স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত মূল সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। নদী শাসনকাজের অগ্রগতি শতকরা ৮৩ ও প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৮৫.৫ ভাগ। আগামী ২০২২ সালের জুন মাসে পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প হচ্ছে এটি, তাই সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে। দীর্ঘদিন এই প্রকল্পের কাজ ঝুলে থাকলেও সম্প্রতি গতি পেয়েছে এবং ইতিমধ্যেই নির্মাণ তদারকি পরামর্শক নিয়োগের লক্ষ্যে এডিবির সম্মতিও পাওয়া গেছে।
এ প্রকল্পটির নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীকে এ ব্যাপারে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
