‘লকডাউনেও’ রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি

আপডেট : ০৪ মে ২০২১, ০৭:১৯ এএম

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই রপ্তানির পালে হাওয়া লেগেছে। পণ্য রপ্তানিতে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। এক বছরের ব্যবধানে এপ্রিলে মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫০২ শতাংশের বেশি। করোনা সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে এপ্রিলে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩১৩ কোটি ডলার। করোনা বিপর্যয়ের প্রাথমিক ধাক্কায় গত বছর এপ্রিলে দেশের রপ্তানি আয় নেমে এসেছিল ৫২ কোটি ডলারে। পরে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও রপ্তানি আয় কিছুটা স্বাভাবিকতায় ফিরলেও দ্বিতীয় ঢেউয়ে রপ্তানি আয় নিয়ে আরও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও গত বছরের মতো ঢালাওভাবে রপ্তানি আদেশ বাাতিলের ঘটনা এখনো দেখা যায়নি।

সার্বিকভাবে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৩ হাজার ২০৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি।

সার্বিকভাবে পোশাক রপ্তানিতে আয় বাড়লেও করোনাকালে ধারাবাহিকভাবে আয় কমছে ওভেন পণ্যে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এ খাতে রপ্তানি আয় কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে নিট পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে নিট পোশাকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে নিট ও ওভেন খাতে ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে হোম টেক্সটাইলে, ৫৪ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে ৫ এপ্রিল থেকে সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করলেও তৈরি পোশাকসহ সব শিল্পকারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখে। ফলে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। আগামীতেও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১৯ সালের এপ্রিলে ৩০৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। সেই তুলনায়ও রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ৬২ শতাংশ। বিশ^ব্যাপী বিভিন্ন দেশে লকডাউনের মধ্যেও রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক পর্যায়ে আছে দেশ।

ইপিবির পরিসংখ্যান আরও বলছে, তৈরি পোশাক, পাট ও পাটপণ্য, চামড়া ও চামড়াপণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য, রাসায়নিক পণ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় ফেরার কারণেই সার্বিকভাবে পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে হিমায়িত খাদ্যের রপ্তানি কমেছে। সার্বিকভাবে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৩ হাজার ২০৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দুই দশমিক ৫৫ শতাংশ কমেছিল তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি। অন্যদিকে হিমায়িত মাছসহ সব ধরনের হিমায়িত খাদ্যের রপ্তানি কমে ৯ শতাংশের মতো। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ৬ শতাংশের বেশি রপ্তানি কমেছে। ফার্নিচারের রপ্তানি কমে ১৩ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি রপ্তানি কমেছে জাহাজ শিল্পে। এ খাতে রপ্তানি কমেছে ৯৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধের দ্বিতীয় বিধিনিষেধে আগের মতো সব বন্ধ করে দেওয়া হয়নি, এটা ভালো দিক। যার ইতিবাচক প্রভাব এপ্রিলে পাওয়া গেল।’

অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ১০৩ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। এছাড়া ৯৫ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৫৪ শতাংশের বেশি।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ৭৬ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়া পণ্য, ৪৩ কোটি ডলারের প্রকৌশল পণ্য, ৩৯ কোটি ডলারের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে চামড়া ও চামড়া পণ্যে সাড়ে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অবশ্য চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে আরও ৮৯৩ কোটি ডলার প্রয়োজন। মে ও জুন মাসে এ পরিমাণ রপ্তানি অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত