তিন মাসে দেশে মোবাইল সংযোগ বেড়েছে ৪৫ লাখ। চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশে মোট মোবাইল সংযোগ বেড়ে ১৭ কোটি ৪৬ লাখে উন্নীত হয়েছে। মোবাইল সংযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করোনা পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট সংযোগও প্রায় একই হারে বেড়েছে। তবে সব ধরনের সংযোগ বাড়লেও ভয়েস কল ও ইন্টারনেট গতির পরিষেবার মান এখনো নিম্নমানের রয়ে গেছে। যদিও গত মার্চে মোবাইল পরিষেবার মান বাড়াতে টেলিটক ছাড়া অন্য তিন মোবাইল অপারেটর সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত তরঙ্গ বরাদ্দ নিয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে মোবাইল ফোন অপারেটরদের মোট সংযোগ ছিল ১৭ কোটি ১ লাখ, যা চলতি বছরের মার্চ শেষে ৪৫ লাখ সংযোগ বেড়ে ১৭ কোটি ৪৬ লাখে উন্নীত হয়। একই সময়ে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ ডিসেম্বরের চেয়ে ৪২ লাখ ৭০ হাজার বেড়ে ১১ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তবে মোবাইল ইন্টারনেটের তুলনায় ব্রডব্যান্ড সংযোগ কিছুটা ধীরগতিতে রয়েছে।
বিটিআরসির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত তিন মাসে সবগুলো মোবাইল ফোন অপারেটরের গ্রাহক সংযোগ বেড়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সংযোগ বেড়েছে শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের। এ সময়ে গ্রাহক সংযোগ বৃদ্ধিতে পিছিয়ে আছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে মোবাইল সংযোগ ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়লেও সেবার মান এখনো তলানিতেই রয়ে গেছে। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর গ্রাহকরা নেটওয়ার্ক কাভারেজ ইস্যুসহ নিম্নমানের ভয়েস কল ও কল ড্রপের সমস্যায় রয়েছেন বলে গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে। তারা বলছেন, মোবাইল ফোনে কল করতে গেলে অনেক সময়ই কথা শোনা যায় না। কল সংযোগেও সময় বেশি লাগছে। ইন্টারনেটের ধীরগতির সমস্যা তো রয়েছেই। বড় শহরগুলোর বাইরে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ।
বিটিআরসির তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ শেষে শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংযোগ দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার, যা গত ডিসেম্বরে ছিল ৭ কোটি ৯০ লাখ ৩৭ হাজার। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে গ্রামীণফোন নতুন সংযোগ পেয়েছে ১৭ লাখ ১৩ হাজার। যদিও জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি ৯ লাখেরও বেশি সংযোগ হারায়। পরবর্তী ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে হারানো সংযোগসহ নতুন গ্রাহক পেয়েছে গ্রামীণফোন। গত বছর দেশে করোনা সংক্রমণকালীন চার মাসে এই অপারেটরটি ২২ লাখ ৯ হাজার সংযোগ হারায়। তবে বছরের পরবর্তী সময়ে গ্রামীণফোনের সংযোগ বাড়তে দেখা যায়। গত বছরের জুন-ডিসেম্বর সময়ে ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার নতুন সংযোগ যোগ হয় গ্রামীণফোনে।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে রবি আজিয়াটার গ্রাহক সংযোগ ১০ লাখ ৪০ হাজার বেড়ে ৫ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজারে উন্নীত হয়েছে। এ সময়ে বাংলালিংকের গ্রাহক সংযোগ গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় ৯ লাখ ৮০ হাজার বেড়েছে। মার্চ শেষে এই অপারেটরের গ্রাহক সংযোগ ৩ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজারে উন্নীত হয়েছে। এ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম অপারেটর টেলিটক ৭ লাখ ৬৩ হাজার নতুন গ্রাহক পেয়েছে। গত মার্চ শেষে এই অপারেটরের গ্রাহক সংযোগ দাঁড়িয়েছে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারে।
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ৯০ দিনের মধ্যে কোনো সিমে কথা বলা, এসএমএস পাঠানো বা ইন্টারনেট ব্যবহার করলেই তাকে সক্রিয় গ্রাহক হিসেবে গণ্য করে। অবশ্য একজন গ্রাহক একাধিক সিম ব্যবহার করতে পারেন।
