পুঁজিবাজারে আরও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে এবার বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে মিউচুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে বিদেশিদের ব্যবস্থাপনায় যেসব মিউচুয়াল ফান্ড আসবে, সেগুলোর ২৫ শতাংশের বেশি মালিকানা থাকতে পারবে না তাদের। গতকাল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) বিদেশি সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে মিউচুয়াল ফান্ড গঠনে উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে এমন অনুমোদন দিয়েছে। কমিশনের নিয়মিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
গত তিন বছর ধরে দেশের পুঁজিবাজার থেকে টানা বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার হতে দেখা যাচ্ছে। তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির উদ্যোক্তা বাদে পুঁজিবাজারে বিদেশিদের এখন প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। সেকেন্ডারি বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের এমন পরিস্থিতিতে মিউচুয়াল ফান্ড গঠনে বিদেশিদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দিল এসইসি।
মিউচুয়াল ফান্ডে বিদেশিদের উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়ে এসইসি এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনাও প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে বিদেশি সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানি মিউচুয়াল ফান্ড গঠন করতে উদ্যোক্তা হতে পারবে। বিদেশি কোম্পানি এককভাবে কিংবা যৌথভাবে দেশি যোগ্য কোনো কোম্পানির সঙ্গে মিলে উদ্যোক্তা হিসেবে মিউচুয়াল ফান্ড গঠন করতে পারবে।
এই সংক্রান্ত নির্দেশনায় কিছু শর্তও ঠিক করে দিয়েছে এসইসি। শর্তানুযায়ী, বিদেশি কোম্পানিকে একটি ট্রাস্ট গঠন করতে হবে। এরপর একক বা যৌথভাবে মিউচুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তা হতে পারবে তারা। কমিশনের অন্য শর্তের মধ্যে রয়েছে, বিদেশি কোম্পানি কোনোভাবেই পুরো ফান্ডের ২৫ শতাংশের বেশি মালিক হতে পারবে না বা ‘সাবস্ক্রাইব’ করতে পারবে না।
বর্তমানে দেশের ব্যাংক, বীমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মিউচুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তা হতে পারে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের মিউচুয়াল ফান্ডের মোট আকারের ন্যূনতম ১০ শতাংশ বিনিয়োগ করতে হয়। বাকি টাকা পুঁজিবাজার থেকে তোলা হয়। ফান্ডগুলোর ব্যবস্থাপনায় থাকে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান। মিউচুয়াল ফান্ডগুলো বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সম্পদ ব্যবস্থাপকরা পুঁজিবাজার, ব্যাংকে বিনিয়োগ করে থাকে। বিনিয়োগ থেকে পাওয়া মুনাফা ইউনিট হোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে দেয়।
