মহান আল্লাহ মানুষের তওবায় খুশি হন

আপডেট : ০৫ মে ২০২১, ০৬:৩৭ এএম

দেখতে দেখতে রমজানের বেশির ভাগ সময় শেষ হয়ে গেছে। আর কদিন পর আমাদের জীবন থেকে আরেকটি রমজান গত হয়ে যাবে। আমরা জানি না, কে কতটুকু রহমতের ছায়ায় নিজেকে আবৃত করতে পেরেছি। ক্ষমাপ্রাপ্তদের খাতায় নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছি। সেখানে কোনো ঘাটতি থাকলে নিরাশ হওয়া চলবে না। রমজানের যে কদিন বাকি আছে, এই সময়টুকু বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি ও কৃত পাপের জন্য তওবা-ইস্তেগফার করে পেছনের ঘাটতিসমূহ পূরণের জন্য সচেষ্ট হতে হবে। এমন উদ্যোগী বান্দাকে আল্লাহ বেশি পছন্দ করেন।

হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ তার সেই বান্দাকে বেশি পছন্দ করেন, যে কবিরা গুনাহের পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর যে বান্দা ছোটখাটো গুনাহকে তুচ্ছ মনে করে তাকে অপছন্দ করেন। আসলে মানুষ তো শয়তানের প্ররোচনায় ভুলত্রুটি করে। কিন্তু মানুষের উচিত ভুলের পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, তওবা-ইস্তেগফার করা। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তিনি তওবা করলে বান্দার পাপরাশি ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মানুষের ক্ষমা প্রার্থনাকে অত্যধিক পছন্দ করেন।

আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনার জন্য কৃতজ্ঞচিত্তে দোয়া করা বান্দার বিনয়ের প্রকাশ। তাই মানুষ হিসেবে আমাদের উভয় জাহানের কল্যাণ প্রার্থনার দোয়া বেশি বেশি করতে হবে। দোয়ার আগে আল্লাহর কাছে নিজের ছোট-বড় ভুলত্রুটির জন্য বিনয়ের সঙ্গে তওবা করতে হবে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া হচ্ছে আকাশ এবং জমিনের নুর।’ আলেমরা বলেন, আল্লাহর কাছে এই পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে প্রিয় আমল হচ্ছে দোয়া।

মনে রাখতে হবে, মহান আল্লাহ মানুষের কী প্রয়োজন, তাদের কীসের অভাবÑ সেসব বিষয়ে তিনি জানেন। তবু তিনি ভালোবাসেন মানুষ নিজেদের সমস্যা, নিজেদের অভাব-অভিযোগের কথা তার কাছে বিনয়ের সঙ্গে দুহাত তুলে বলুক। আল্লাহ তার প্রিয় বান্দার আকুতি মেশানো কণ্ঠধ্বনি বারবার শুনতে ভালোবাসেন।

সুরা বাকারায় আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘আমি তো নিকটেই আছি, আমি আবেদনকারীদের আবেদন মঞ্জুর করি। তাদেরও উচিত আমার বিধান মেনে নেওয়া এবং আমার প্রতি দৃঢ়বিশ্বাস পোষণ করা।’ সুরা মুমিনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর তোমাদের পরওয়ারদিগার বলে দিয়েছেন যে, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের প্রার্থনা মঞ্জুর করব, যারা আমার ইবাদত থেকে অহংকার করে এবং অন্য নেতাদেরও আহ্বান করে, তাদের উপাসনা করে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ উল্লিখিত আয়াত থেকে আমরা দোয়ার কিছু নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারি। তা হলো, দোয়া করতে হবে ঐকান্তিক আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে। দোয়া করতে হবে একমাত্র আল্লাহর সমীপে। দোয়ায় কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে ভদ্রতা, নম্র্রতা ও বিনয়ের সঙ্গে নিজের সমস্যার কথা জানালে আল্লাহ তা কবুল করবেন বলে কথা দিয়েছেন। আল্লাহর কথা অপরিহার্য, এর কোনো অন্যথা হয় না।

লেখক : খতিব, রহিম মেটাল জামে মসজিদ, তেজগাঁও

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত