করোনাভাইরাসের টিকা পেতে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে সরকার। চিঠিতে জানানো হয়েছে, অনুদান অথবা অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে টিকা চায়। গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এ চিঠির বিষয়ে এখনো কিছু স্পষ্ট করেনি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ এ টিকা পেতে সবরকমের চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। এ নিয়ে পঞ্চম উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে টিকা চাইল বাংলাদেশ।
গত ৯ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি বাংলাদেশ সফর করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য আমেরিকা ভ্যাকসিন উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। ১০০ মিলিয়ন আমেরিকানের টিকা নেওয়া হলেই তা অন্যান্য দেশে পাঠানো হবে।’ গত ২ মে দেশটির গণমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি জনগণ করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ছয় কোটি ডোজ টিকা রয়েছে। আমরা বলেছি, তোমরা অনুদান হিসেবে আমাদের দাও, যদি তা না হয় তোমরা চাইলে আমরা কিনে নিতেও রাজি আছি। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) এখনো আমাদের চিঠির জবাব দেয়নি। আমরা চেষ্টা করছি, যুক্তরাষ্ট্র থেকেও যেন ভ্যাকসিন পাই।’
ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা দেয় সেরাম। এরপরের চালানে ২০ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে। এর বাইরে সেরাম আর কোনো টিকা দেয়নি। এছাড়া উপহার হিসেবে আরও ৩২ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে ভারত সরকার। সব মিলে সেরামের প্রস্তুত করা ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। গত ২৭ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে এ টিকা প্রয়োগও শুরু হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে জানিয়েছেন, তারা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তারা বলছে, একটু সময় লাগলেও বাংলাদেশ টিকা পাবে।
এদিকে টিকার সংকটের কারণে প্রথম ডোজ টিকার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে সরকার। বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়া ও চীনের টিকার ইতিমধ্যে অনুমোদনও দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। বাংলাদেশেই টিকা প্রস্তুতের জন্য ইনসেপটা ফার্মা, পপুলার ফর্মা ও হেলথকেয়ার ফার্মা রাশিয়ার সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যেই রাশিয়ার তৈরি ৪০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। চীন ইতিমধ্যে ৫ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১০ মে’র মধ্যে এ টিকা বাংলাদেশে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়া গ্লোবাল ভ্যাকসিন নেটওয়ার্ক বা কোভ্যাক্স অনুদান হিসেবে বাংলাদেশকে কিছু টিকা দেবে। এর বাইরে পঞ্চম উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে টিকা চাইল বাংলাদেশ।
