ভার্চুয়াল শুনানিতে জামিন পেল ৩৪৫ শিশু

আপডেট : ০৫ মে ২০২১, ০৭:১৮ এএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে অধস্তন ভার্চুয়াল আদালতে এখন পর্যন্ত ৩৪৫ শিশু জামিন পেয়েছে। গত ১২ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত ১৫ কার্যদিবসে শিশুরা জামিনে মুক্তি পেয়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার জানান সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। তিনি আরও জানান, এ সময়ে (১৫ কার্যদিবস) সারা দেশে বিচারিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ৪৮ হাজার ৭৯৪টি মামলায় জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করে ২৬ হাজার ৩০৮ জন হাজতি জামিনপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ৩৪৫ জন শিশু রয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে মানুষের চলাচল ও কার্যক্রমের ওপর গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারিক আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত ১২ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় দফায় সারা দেশে বিচারিক আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জামিন ও অতীব জরুরি ফৌজদারি দরখাস্ত এবং বিভিন্ন মামলার আবেদনের শুনানি হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আইনের সঙ্গে সংঘাতে আসা শিশুদের জামিনের উদ্যোগ নেয় সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটস (এসসিএসসিসিআর)। আর এ উদ্যোগে সহায়তা করে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।

শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী আইনের সঙ্গে সংঘাতে বা সংস্পর্শে আসা শিশুদের কারাগারে না পাঠিয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে গাজীপুরের টঙ্গী ও কোনাবাড়ী এবং যশোরে তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে টঙ্গী ও যশোরের কেন্দ্র দুটি বালক শিশুদের জন্য নির্ধারিত। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, খুন, ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িত নয় এবং অপেক্ষাকৃত লঘু ও প্রথমবারের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়া অন্তত ৫০০ শিশুর তালিকা করা হয়। এ তালিকা অনুযায়ী জামিন শুনানি হচ্ছে। জামিনে মুক্তি পাওয়া শিশুরা যাতে আর্থিক অনটনে না থাকে সেজন্য তাদের পরিবারকে তিন মাসের জন্য প্রতি মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে মোট সাড়ে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত