শ্রমিকদের বেতন-ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ নেতাদের বিরুদ্ধে

আপডেট : ০৫ মে ২০২১, ১০:৫৩ পিএম

সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনের মুখে এক মাস কারখানা বন্ধ থাকার পর শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধ করেছে আর.এস এ্যাপারেলস নামক তৈরি পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ। তবে পরিশোধ করা ওই বেতনের প্রায় দুই লাখ টাকা মেরে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাগো বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিক নেতা মামুন এবং বাংলাদেশ রেডিমেট গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি জাহিদুর রহমান জীবনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শ্রমিকরা গত ২৮ এপ্রিল বিষয়টি জানিয়ে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ পুলিশ সুপার বরাবর প্রতিকার চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। জানতে চাইলে বুধবার বিকেলে শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় অবস্থিত আর.এস এ্যাপারেলস নামক তৈরি পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের

বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই গত ৬ এপ্রিল কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় শ্রমিক সংগঠন শিল্প পুলিশের কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদন করেন। 

এর প্রেক্ষিতে শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আব্দুল হেলাল সমস্যাটি সমাধান করে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বকেয়া বেতনের তিন লাখ টাকা আদায় করেন। যা শ্রমিকদের পরিশোধের জন্য নেতাদের কাছে দায়িত্ব দেন। পরে গত ২৫ এপ্রিল বাংলাদেশ রেডিমেট গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি জাহিদুর রহমান জীবন শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার কথা জানিয়ে তার অফিসে আসতে বলেন। পতিনি শ্রমিকদের মাঝে এক লাখ নয় হাজার টাকা বণ্টন করে বাকি এক লাখ ৯১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।  

ভুক্তভোগী শ্রমিক লাবনী বেগম বলেন, 'কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাদের বকেয়া বেতনের তিন লাখ টাকা পরিশোধ করলেও জাগো বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিক নেতা মামুন ও বাংলাদেশ রেডিমেট গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি জাহিদুর রহমান জীবন আমাদের টাকা কম দিয়ে বাকি টাকা মাইরা খাইছে। আমরা কেউ কেউ মোটেও টাকা পাইনি। কেউ কেউ আবার দুই হাজার তিন হাজার করেও পাইছে। যেখানে আমরা ১০ হাজার টাকা পাব, সেখানে তারা দিছে মাত্র পনের শ টাকা। এ ঘটনায় অনেক শ্রমিক কান্নাকাটি করে চলেও গেছে। আমি চাই প্রতারণাকারী শ্রমিক নেতাদের বিচার হোক এবং আমাদের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়া হোক'।

জানতে চাইলে শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আব্দুল হেলাল বলেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আমি কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা আদায় করে শ্রমিক নেতাদের কাছে দিয়েছিলাম। তারপর নেতারা কী করেছেন আমি জানি না। 

বিষয়ে জাগো বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিক নেতা মামুন বলেন, 'আমি কোনো টাকা নেইনি। জীবন তার অফিসে নিয়ে শ্রমিকদের টাকা দিয়েছে। কারখানার মালিক আমার পরিচত হওয়ায় আমি সঙ্গে গিয়েছি'। 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ রেডিমেট গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি জাহিদুর রহমান জীবন বলেন, 'আমি ১৬ হাজার টাকা খরচ করেছি, ৩০ হাজার টাকা পেয়েছি। কিন্তু সেখানে পুলিশ আর মামুন ১ লাখ ৯ হাজার টাকা শ্রমিকদের দিয়ে বাকি টাকা নিয়ে যায়'। 

আর. এস এ্যাপারেলসের অংশীদার (মালিক) মো. কামাল বলেন, 'আমার কারখানার বড় ক্ষতি করেছে শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা। আমি শ্রমিকদের বলেছিলাম, তোমরা ফেডারেশনের কথা শুনে কারখানাটি বন্ধ করে যেও না। কয়েকটা দিন পরে সব বকেয়া আমি পরিশোধ করব। কিন্তু নেতারা শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে কারখানাটি বন্ধ করান। পরে গত ২৫ এপ্রিল শ্রমিকদের পাওনা ৩ লাখ টাকা শিল্প পুলিশের মাধ্যমে ফেডারেশনের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ফেডারেশন শ্রমিকদের টাকা দিয়েছে কিনা আমি জানি না'। 

এ ব্যপারে শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান বলেন, অনেক ঘটনাই তো আমার কাছে আসে। ঘটনাটি কয়েকদিন আগের। তবে আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত