খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি নেতাকর্মীদের উৎকণ্ঠা

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ০২:২৩ এএম

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করোনা-পরবর্তী জটিলতা বেড়েছে। গতকাল বুধবার তার শ্বাসকষ্ট বাড়লে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ান চিকিৎসকরা। তা ছাড়া ফুসফুসে যে পানি জমেছিল, তা আগেই বের করা হয়েছে। এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গতকাল দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার এক স্বজন। এদিকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত না করায় উদ্বেগ বাড়ছে দলটির নেতাকর্মীদের মাঝে। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন। খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

খালেদা জিয়ার ওই স্বজন বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে, অনুমতি দেওয়ার জন্য কেন আদালতে যেতে হবে? বিদেশ নিতে সরকারের নির্বাহী আদেশই যথেষ্ট। গত ওয়ান-ইলেভেনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সরকারের নির্বাহী আদেশে চিকিৎসার জন্য বিদেশ গিয়েছিলেন।’

গত ২৫ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট করার পর ফল আবারও পজিটিভ আসে। তখন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বলা হয় এক সপ্তাহ পর আবার করোনা টেস্ট করা হবে। এরপর করোনা টেস্ট করানো হয়েছিল কি না, হলে তার ফলাফল কী, তা জানাননি খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। তবে এভারকেয়ার হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত রবিবার তার করোনা টেস্ট করা হয়েছিল এবং ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। অথচ একই দিন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য এবং দলের ভাইস চেয়ারপারসন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তার এ ধরনের এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন এই বলে যে তিনি কেন এড়িয়ে যাচ্ছেন। এসব নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় খালেদা জিয়ার স্বজনরা : এদিকে গতকাল রাতে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যান তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারসহ পরিবারের সদস্যরা। সেখানে তার চিকিৎসার বিষয়ে নানা আলোচনা করেন তারা।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ (গতকাল) রাত সাড়ে ৮টায় খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার একটি আবেদন নিয়ে এসেছিল। আমরা এটি গ্রহণ করেছি। এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয় যে গাইডলাইন দেবে সেটি যাচাইবাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘যদি তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয় তাহলে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে গণমাধ্যমে কিছু জানাননি স্বজনরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসা থেকে বের হয়ে শামীম এস্কান্দার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চাই আমরা। তাই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে যে কথা বলেছেন তার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তার কাছে আবেদনপত্র পৌঁছে দিয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস  দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’

করোনা-পরবর্তী জটিলতায় ভুগছেন খালেদা জিয়া : বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা রোগীদের করোনা-পরবর্তী বিভিন্ন ধরনের জটিলতা হয়। এর মধ্যে  শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া, হার্ট ও ফুসফুসের জটিলতা, খাদ্যনালিতে সমস্যা, স্মৃতিভ্রম, শারীরিক দুর্বলতা, কারও কারও ডায়াবেটিস হতে পারে (অতীতে যাদের ডায়াবেটিস ছিল না এমন কারও) এবং এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা-পরবর্তী জটিলতা এড়াতেই খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করান। সেটি কাজেও লেগেছে। চেয়ারপারসনের শ্বাসকষ্ট হওয়ায় তাকে কেবিন থেকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে নেওয়া হয় এবং গতকাল তিনি সিসিইউতে অক্সিজেন সাপোর্টে ছিলেন।’

ওই চিকিৎসক বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় লন্ডন থেকে সমন্বয় করছেন তার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান। নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সমস্যার কথা শুনে সমাধানের বিষয়ে পরামর্শ রাখছেন। মোটকথা, দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের পরামর্শের মাধ্যমেই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। বয়স ও শারীরিক জটিলতার কারণে তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় এ ধরনের টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করছেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত