গত বছর মে মাস থেকে চলতি বছর ৪ মে পর্যন্ত প্রায় এক বছরে দুই দফায় ৭৪ কার্যদিবসে বিচারিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানিতে ১ লাখ ৭৩ জন কারাবন্দি জামিন পেয়েছেন। এর মধ্যে গত বছর জামিন পান ৭২ হাজার ২২৯ জন। চলতি বছর ১৬ কার্যদিবসে (৪ মে পর্যন্ত) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ২৭ হাজার ৮৪৪ জন। গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ৭৪ কার্যদিবসে সারা দেশে বিচারিক আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৯৯ হাজার ২২১টি ফৌজদারি মামলায় জামিনের আবেদন ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তির মাধ্যমে এসব হাজতি জামিনপ্রাপ্ত হয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন।
ইতিপূর্বে ভার্চুয়াল আদালত শুরু হওয়ার পর প্রথম দফায় গত বছর ১১ মে থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ৫৮ কার্যদিবসে সারা দেশে বিচারিক আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানিতে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ফৌজদারি মামলায় জামিন-দরখাস্ত (শিশু আদালতসহ) নিষ্পত্তি এবং ৭২ হাজার ২২৯ জন অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ভার্চুয়াল আদালত শুরু হওয়ার পর চলতি বছর ১২ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত ১৬ কার্যদিবসে সারা দেশে বিচারিক আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে ৫১ হাজার ৮৮২টি মামলায় জামিনের দরখাস্ত ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয় এবং ২৭ হাজার ৮৪৪ জন কারাবন্দি জামিনপ্রাপ্ত হয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে এ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে মোট জামিনপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ৩৬৭ জন।
করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে মানুষের চলাচল ও কার্যক্রমের ওপর গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের (লকডাউন) পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ ও অধস্তন আদালতের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত ১২ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় দফায় সারা দেশে অধঃস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জামিন শুনানি ও বিভিন্ন মামলার আবেদনের ওপর শুনানি হচ্ছে।
