ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক

ব্যয়ের লাগাম টানছে সরকার

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ০৪:৪৪ এএম

মহামারী করোনায় সরকারের রাজস্ব আয় কমে যাওয়ায় ব্যয় সংকোচনের নীতি গ্রহণ করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট সময়ে নতুন করে কোনো পূর্তকাজ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এদিকে ভারত থেকে আরও ৫০ হাজার মেট্রিকটন চাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। তবে এবার প্রথমবারের মতো রেলপথে বাংলাদেশে চাল আমদানি শুরু হচ্ছে। এতে চাল আমদানির সময় ও ব্যয় কমে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, চলতি বাজেটের সময় কম থাকায় আগামী জুন পর্যন্ত গণপূর্ত বিভাগের নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে গণপূর্ত বিভাগের যে প্রকল্পগুলো ছিল, সেগুলো আমরা বিবেচনা করিনি। কারণ এখন সময় নেই। এই অর্থবছর কাজগুলো শেষ করা যাবে না। অর্থবছরের চলতি মাস বাদ দিলে শুধু জুন মাস বাকি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গণপূর্ত বিভাগের যেগুলো চলমান কাজ, সেগুলো চলবে এবং বিদেশি অর্থায়নের কাজগুলোও চলবে। এছাড়া নতুন যেসব প্রকল্পের কাজ শেষ করতে বেশি সময় লাগবে এবং এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে শেষ করা যাবে না, সেগুলো পরে কাজ শুরু করতে হবে। কারণ এখন যে ম্যাটেরিয়ালস এবং খরচ তা স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। এগুলোর প্রাইসও আমরা সেভাবে জানি না। এগুলোর ওপর ভিত্তি করে আমরা কোনো প্রকল্প অনুমোদন দিতে পারব না। সেজন্য আমরা ঠিক করেছি, এখন থেকে আগামী জুন পর্যন্ত গণপূর্ত বিভাগের নতুন কোনো প্রকল্প আমরা অনুমোদন দেব না। এটা আমরা পরিষ্কার করে দিয়েছি।

গতকালের সভায় সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ‘ঢাকাস্থ মিরপুর পাইকপাড়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ শীর্ষক গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাঁচটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। যার একটিও অনুমোদন করেনি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল অর্থ বিভাগ এক পরিপত্রে চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় নতুন কোনো পূর্তকাজের (নির্মাণ-স্থাপনা) কার্যাদেশ না দিতে নির্দেশনা দেয়।

গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় ১৪টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে ৯টি অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছর প্রায় শেষ পর্যায়ে হওয়ায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চারটি এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার।

তিনি জানান, দেশে প্রথমবারের মতো রেলপথে চাল আমদানি হচ্ছে। সেজন্য ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারতের মেসার্স সবিক এক্সপোর্ট লিমিটেড থেকে ১৬৩ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায় এ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এসব চাল ভারতের কলকাতা ছত্তিশগড় থেকে ট্রেনভর্তি হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল, দর্শনা ও রহনপুর স্থলবন্দর দিয়ে আসবে। হঠাৎ রেলপথ দিয়ে কেন চাল আমদানির সিদ্ধান্তের প্রশ্নে শাহিদা আক্তার বলেন, খাদ্য সচিব তাদের জানিয়েছেন, রেলপথে চাল আনলে সময় ও ব্যয় দুটিই কমবে। তাই ট্রায়াল হিসেবে প্রথমবারের মতো এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

গতকালের সভায় অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছেÑ পেট্রোবাংলা কর্র্তৃক ১৩তম এলএনজি হিসেবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি যুক্তরাষ্ট্রের এক্সসেলারেট এনার্জি থেকে সর্বমোট ৩১৮ কোটি ২৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪৩ টাকায় এবং পেট্রোবাংলা কর্র্তৃক ১৪তম এলএনজি হিসেবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি যুক্তরাষ্ট্রের একই কোম্পানি থেকে সর্বমোট ২৯৮ কোটি ২২ লাখ ২২ হাজার ৭৯ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বেলারুশ থেকে ৪৪৭ কোটি ৮২ লাখ ৭৫ হাজার ১৭০ টাকায় এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার এবং তিউনিসিয়া থেকে ৭২৩ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার টাকায় এক লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্র্তৃক ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) ’ প্রকল্পের আওতায় ৬৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শিক্ষা সরঞ্জাম বিতরণের জন্য লট-২, ৩, এবং ৪ এর আওতায় যন্ত্রপাতি তিনটি লটে সর্বমোট ৭৩ কোটি ৭৪ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৪ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) কর্র্তৃক দেশের ১৬০টি উপেজেলা আইসিটি ট্রেনিং সেন্টার এবং রিসোর্স নির্মাণের দ্বিতীয় ধাপ প্রকল্পের পূর্তকাজ, যন্ত্রপাতি/সরঞ্জামাদি ও সেবা কার্যক্রম কোরিয়ার তাইহান কনজুরিয়াম থেকে ৪৬০ কোটি পাঁচ হাজার ৭৬৬ টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্র্তৃক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) কাছ থেকে ১৪তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ৯২ কোটি ৩৮ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত