হেফাজত নেতা ফয়জীরও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক!

আপডেট : ০৭ মে ২০২১, ০৩:০৪ এএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর ঘিরে চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের সহিংসতার ঘটনার ‘অন্যতম নির্দেশদাতা’ জাকারিয়া নোমান ফয়জীর কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সহিংসতার নির্দেশের পাশাপাশি তিনি অর্থও ব্যয় করেছেন। এছাড়া হেফাজতের আরেক নেতা মামুনুল হকের মতোই ফয়জীরও একাধিক নারীর সঙ্গে মেলামেশার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে সালমা বেগম ও শাহেদা বেগম নামে দুজন নারীর সন্ধান মিলেছে। তাদের নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যেকোনো সময় তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হবে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।

ফয়জীর গ্রেপ্তার বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, যে কয়েকজনের ইন্ধন, নির্দেশ ও অর্থের জোগানে তাণ্ডব চলেছে তার মধ্যে জাকারিয়া নোমান ফয়জী অন্যতম। হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির প্রচার সম্পাদক নোমান ফয়জীকে গত বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটের একটি দল কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে।

ফয়জীর বিষয়ে আলাপকালে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামুনুলের মতোই প্রতারক ফয়জী। স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও দীর্ঘদিন ধরে ফয়জী সালমা ও শাহেদা নামে দুই মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। তাদের সঙ্গে স্ত্রীর মতোই ব্যবহার করেছেন। মামুনুল যে স্টাইলে ঝর্ণার সঙ্গে মেলামেশা করেছেন ঠিক একইভাবে সালমা ও শাহেদাকে ব্যবহার করেছেন ফয়জী। ওই দুই নারী চট্টগ্রাম অঞ্চলেই থাকেন।’

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই দুই নারীকে আমাদের হেফাজতে আনা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। ফয়জী তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তদন্তের স্বার্থে ওই দুই নারীর ঠিকানা এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকারিয়া নোমান ফয়জী গত ২৬ মার্চ হাটহাজারীতে যেসব নাশকতা বিশেষ করে পুলিশের ওপর হামলা, ডাকবাংলো ভাঙচুর ও ভূমি অফিসে অগ্নিসংযোগসহ প্রতিটি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে যেসব সহিংসতা হয়েছে এসব ঘটনার যারা মাস্টারমাইন্ড, যাদের নির্দেশে, ইন্ধনে এবং অর্থের জোগানে এসব নাশকতা হয়েছে, প্রত্যেকটির বিষয়ে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার কথা স্বীকার করেছেন।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘দেশ ও সরকারকে অস্থিতিশীল করে ফেলা ছিল হেফাজতে ইসলামের তা-বের উদ্দেশ্য। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং দ্রুত যে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলবে এটি তাদের ধারণায় ছিল না। এসব ঘটনার মাস্টারমাইন্ড আর কারা আছে, আর কার কার নির্দেশে এসব সহিংসতা-নাশকতা হয়েছে এবং নাশকতার অর্থের জোগানদাতা কারা সেটা তাকে (ফয়জী) রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে বের করার চেষ্টা করব। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলবে, প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।’

ফয়জীর মোবাইল ঘেঁটে ফেইসবুক মেসেঞ্জারে একাধিক নারীর সঙ্গে ‘অনৈতিক’ কথোপথনের তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘বেশকিছু চ্যাটিং পেয়েছি, যাদের সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। আমাদের হাতে সেগুলো আছে। তদন্তের স্বার্থে আমরা সেগুলো এখন প্রকাশ করব না। তবে মামলায় ‘ডকেট’ হিসেবে এগুলো আদালতে জমা দেওয়া হবে। এসব চ্যাটিংয়ের বিষয়ে তিনি আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। বলেছি যে আপনাদের (হেফাজতে ইসলাম) যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বা আপনি যে বেশভূষা নিয়ে চলেন, তার সঙ্গে আপনার এই চরিত্র সাংঘর্ষিক কি না, সেটার সঙ্গে মেলে কি না? তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’

গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টে নারী নিয়ে অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। স্থানীয়দের অভিযোগ, রিসোর্টে মামুনুলের সঙ্গে যে নারী (জান্নাত আরা ঝর্ণা) ছিলেন তার সঙ্গে তিনি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত। তবে মামুনুল সেদিন ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। হেফাজতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ওইদিন তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার দিন সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের আসামি করে তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় মামুনুল হক প্রধান আসামি। মামলা দায়েরের পর মামুনুল বেশ কিছুদিন পালিয়ে বেড়ালেও গত ১৮ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে এক মামলায় রিমান্ডে আছেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, ওই নারীর সঙ্গে তার বৈবাহিক কোনো সম্পর্ক নেই। কয়েকটি শর্ত দিয়ে চুক্তিভিত্তিক একটি সম্পর্ক রেখেছেন তিনি।

এদিকে গতকাল জাকারিয়া নোমান ফয়জীকে হাটহাজারী থানায় সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দশ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত