গাজীপুরে বন বিভাগের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা একটি বাজার ১০ লাখ টাকায় ইজারা দিয়েছে কালিয়াকৈর পৌরসভা। সরকারি পূর্বানুমোদন ছাড়া বন বিভাগের জমি ইজারা দেওয়ার ঘটনায় বন বিভাগের কর্মকর্তারা তা বাতিলের জন্য পৌর মেয়রকে চিঠি দিয়েছেন। বাজারটির ইজারা নিয়ে বন বিভাগ ও কালিয়াকৈর পৌরসভা বর্তমানে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
জানা গেছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চান্দরা মৌজায় রেললাইনসংলগ্ন প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় বন বিভাগের কয়েক একর জমিতে অবৈধভাবে বিভিন্ন দোকানপাট ও হাট-বাজার গড়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ওই সব দোকানপাট থেকে প্রতিদিন বিপুল টাকার চাঁদা তুলত। কালিয়াকৈর পৌরসভা ওই ওয়ার্ডের বাজারটি স্থানীয় হারুন অর রশিদ নামে এক ব্যক্তির কাছে গত ১৩ এপ্রিল ১০ লাখ টাকায় ইজারা দেয়। ইজারা পেয়ে হারুন অর রশিদের লোকজন বাজারের প্রতিটি দোকান থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা ওঠাতে থাকে। পরে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ইজারাদারের লোকজনকে ইজারার টাকা ওঠাতে বাধা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় লোকজন ইজারার বিষয়টি ওই এলাকার বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানায়। খবর পেয়ে ২৯ এপ্রিল ইজারা বাতিলের জন্য পৌর মেয়রকে চিঠি দেয় বন বিভাগের কালিয়াকৈর রেঞ্জের কর্মকর্তারা। এরপর গত রবিবার ওই বাজারে গিয়ে ইজারাদারের লাগানো ইজারার টোল চার্ট খুলে নিয়ে যায় বন কর্মকর্তারা।
বাজারের লোকজন জানায়, বন বিভাগের জমিতে গজারিগাছের নিচে স্থানীয়রা এলাকার নানা ধরনের সবজি, মৌসুমি ফলমূল এবং নিত্যব্যবহার্য পণ্য বিক্রি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এতে ওই এলাকা ছাড়াও আশপাশের লোকজন বাজারটিতে আসতে থাকে। ফলে সেখানে বেশ কিছু দোকানপাট গড়ে ওঠে। সম্প্রতি কালিয়াকৈর পৌরসভা বাজারটি ইজারা দেওয়ার পর ইজারাদারের লোকজন প্রতি দোকান থেকে কমপক্ষে ৫০ টাকা করে নিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বন বিভাগের কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি বনভূমিতে যেকোনো প্রকার কার্যক্রমের জন্য বন বিভাগ তথা সরকারের পূর্বানুমতি গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ কালিয়াকৈর পৌরসভা কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ওই হাট-বাজারটি ইজারা প্রদান করেছে। বন বিভাগের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বাজারটি উচ্ছেদের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। বাজারটির ইজারা বাতিলের জন্য পৌর মেয়রকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কালিয়াকৈর পৌর মেয়র মো. মজিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পৌর এলাকায় যেকোনো প্রকার জমিতে হাট-বাজার বসলে তা ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার পৌরসভার রয়েছে। আইন মেনেই বাজারটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের জমিতে হাট-বাজার না বসলে ইজারাও নেওয়া হবে না। দীর্ঘ সময় ওই বাজারটিতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা টাকা উঠিয়ে নিজেরা ভোগ করেছে। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত ছিল। তাই এ বছর বাজারটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।’
