শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিপিএলের দ্বিতীয়পর্বে জয়ের হ্যাটট্রিক করল মোহামেডান। গতকাল বিকেলের ম্যাচে বুরকিনা ফাসোর ডিফেন্ডার মুনজির কুলদিয়াতির গোলে জয় পায় তারা। লিগের প্রথম পর্বের ১২ ম্যাচে মোহামেডানের জয় ছিল ৫টি। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বে যেন অন্য চেহারায় মোহামেডান। আরামবাগ ও সাইফ স্পোর্টিংয়ের পর এবার হারাল শেখ রাসেলকে।
মূল কোচ শন লি ছুটিতে। তার জায়গায় দ্বিতীয় পর্বে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী কোচ মোহামেডানের জার্সিতে দীর্ঘদিন খেলা আলফাজ। টানা তিন জয়ের
কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন ফুটবলারদের, ‘লকডাউনের মধ্যে আমাদের অনুশীলন চলেছে পুরোদমে। শন এখানে নেই। কিন্তু কোচ যেভাবে আমাকে অনুশীলনসূচি দিয়েছে, সেটাই মেনে মাঠে খেলিয়েছি। এই সাফল্যের সব কৃতিত্ব আসলে ফুটবলারদের।’
কাগজে-কলমে শক্তিতে মোহামেডানের চেয়ে এগিয়ে শেখ রাসেল। জাতীয় দলের ফুটবলার মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সঙ্গে মাঝমাঠে বখতিয়ার দুশইবেকভ। আর আক্রমণে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ওবে মনেকের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান জিয়ানকার্লো লোপেস রদ্রিগেজ। কিন্তু সেই শেখ রাসেল গতকাল ছিল নিষ্প্রভ। যদিও দুয়েকবার ওবে মনেকে গোলের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কখনো পোস্টে লেগে ফিরেছে বল। ম্যাচের ৫০ মিনিটে এসে চোটে পড়েন ওবে মনেকে, কোচ সাইফুল বারী বাধ্য হয়েই তুলে নেন তাকে মাঠ থেকে। এরপর থেকে আক্রমণের ধারও অনেকটা কমে গেছে শেখ রাসেলের।
ম্যাচের ৩ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত মোহামেডান। বাঁ প্রান্ত দিয়ে আতিকুজ্জামানের থ্রোইন থেকে বল পেয়ে মনজুর কুলদিয়াতি দারুণ এক হেড করেন। কিন্তু সে যাত্রায় গোললাইন থেকে সেভ করেন শেখ রাসেলের ডিফেন্ডার সিউভুস আসরোরভ। কিন্তু ৩৬ মিনিটে আর কুলদিয়াতিকে আটকাতে পারেনি শেখ রাসেল। কর্নার থেকে হাবিবুর রহমানের উড়ে আসা বলে দারুণ দক্ষতায় হেডে কুলদিয়াতি গোল করেন।
এই গোল ধরেই ম্যাচ শেষ করেছে মোহামেডান। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে শেখ রাসেলকে টপকে গেল মোহামেডান। ১৫ ম্যাচে ৮ জয়, ৪ ড্র, ৩ হারে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে চারে উঠল মোহামেডান। আর সমান ম্যাচে ৮ জয়, ২ ড্র ও ৫ হারে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে শেখ রাসেল। গতকাল সন্ধ্যার ম্যাচে সাইফ স্পোর্টিংকে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত করে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে ৬ষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। প্রথমার্ধ ছিল ১-১। রাকিব হোসেন ২টি, মান্নাফ রাব্বি, নিক্স ব্রিজোলারা এবং দিদিয়ের ব্রুসো একটি করে গোল করেন আবহানীর। সাইফের দুটো গোলই করেন জন ওকোলি।
