চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে ‘নারীলোভী’ বলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষে মারামারির দুই দিন পর এক পক্ষের বিরুদ্ধে আরেক পক্ষের বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্য বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বড় বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ৮টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডকে নাশকতা বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
গ্রামবাসী জানান, রাত ২টার দিকে বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বড় বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে তার আগেই ৮টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘরে থাকা নগদ দুই লাখ টাকাসহ কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
অগ্নিকাণ্ডের ওই ঘটনাকে নাশকতা বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। তাদের মধ্যে মো. মামুন, তাজুল আহমেদ, সালাউদ্দিন ও লায়লা বেগমের অভিযোগ, পাশর্^বর্তী বাড়ির প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম, আরমান, জহুরুল ইসলাম, সালেহ আহমদসহ কয়েকজন প্রতিবেশী নুরুল আলমের ঘরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে গত বুধবার বিকেলে নুরুল আলম ও প্রবাসী সিরাজুল ইসলামের মধ্যে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে ‘নারীলোভী’ বলাকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পরিবারের কয়েকজন আহত হন। নুরুল আলমের পরিবারের সদস্যরা সবাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় শুক্রবার রাতে তারা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে সিরাজুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা নুরুল আলমের ঘরে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে এলাকার একটি দোকানে বসে খবর শুনছিলেন নুরুল আলম ও সিরাজুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন। এ সময় টিভিতে হেফাজত নেতা মামুনুল হক প্রসঙ্গে একটি সংবাদ প্রচার হচ্ছিল। নুরুল আলম তখন মামুনুল হককে ‘নারীলোভী’ বলে মন্তব্য করলে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে সেটা মারামারিতে রূপ নেয়।
তবে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম, আরমান ও সালেহ আহমদ আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘টিভিতে খবর প্রচারকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনায় তারা (নুরুল আলম পরিবার) আমাদের পরিবারের কয়েক সদস্যকে কুপিয়ে আহত করে।’
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী জাহাঙ্গীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে নগদ ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা এবং সবাইকে লুঙ্গি ও শাড়ি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে মারামারির ঘটনা শুনে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছেন থানাটির ওসি আবুল কালাম আজাদ। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
