অর্থ বিভাগের পরামর্শ

প্রতি মাসে রাশিয়ার টিকা আনতে হবে ২০ লাখ ডোজ

আপডেট : ১০ মে ২০২১, ০৩:৪০ এএম

রাশিয়ার টিকা স্পুৎনিক-ভি ভ্যাকসিন ক্রয় চুক্তি হলে প্রতি মাসে ২০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। রাশিয়া থেকে ১০ মিলিয়ন টিকা কেনার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে স্বাস্থ্য বিভাগের মতামত চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ পরামর্শ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। এরপর চুক্তি অনুযায়ী ডোজ সরবরাহ শেষ হওয়ার পর উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এই ভ্যাকসিন ক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানো যাবে।

রাশিয়ার স্পুৎনিক-ভি ভ্যাকসিন কেনার জন্য প্রস্তাবিত সরবরাহ চুক্তির বিষয়ে ৭ মে অর্থ বিভাগের আর্থিক সংশ্লেষ সম্পর্কিত মতামত চায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। গতকাল রবিবার এক চিঠিতে এ মতামত জানায় অর্থ বিভাগ।

অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ভ্যাকসিন কেনা বাবদ সমুদয় অর্থের মধ্যে অগ্রিম ৫০ ও অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ অর্থ ভ্যাকসিন বুঝে পাওয়ার পর এলসির মাধ্যমে পরিশোধ করা যেতে পারে। যেহেতু সরকার এই ভ্যাকসিন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে না, তাই ক্লজ ৪.১-এ বর্ণিত ০.১ শতাংশ রয়্যালটি পরিশোধের বিষয়টি বাদ দেওয়া যেতে পারে। তবে ভ্যাকসিনের মূল্য (ক্লজ ২.৬-এ উল্লিখিত) কত হবে, তা স্বাস্থ্য সচিবের নেতৃত্বে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে চূড়ান্ত করতে পারে বলে এতে বলা হয়।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ বি এম খোরশেদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন থেকে দ্রুতই ভ্যাকসিন আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। গত শুক্রবার চীনের একটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানির সঙ্গে ওয়েবিনারে বৈঠক হয়েছে। আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার চুক্তির বিষয়ে কিছু কোয়ারিজ (প্রশ্নের জবাব) দিয়েছি আমরা। আশা করি শিগগিরই জবাব পাব।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চীনা বা রাশিয়ান কোনো ভ্যাকসিনের দাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এ জন্য অর্থ বিভাগের কাছে কত বরাদ্দ চাওয়া হবে, সেটা বলা যাচ্ছে না।

ভারত থেকে ৩ কোটি ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত করোনার ভ্যাকসিন কেনার চুক্তি করেছিল সরকার। কিন্তু ভারত তা পুরোপুরি সরবরাহ করতে পারেনি। এ প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও চীন থেকে টিকা আনার বিষয়ে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।

অর্থ বিভাগের চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত সরবরাহ চুক্তিটি গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়। এই চুক্তি বিজনেজ-টু-গভর্নমেন্টের পদ্ধতিতে সম্পাদন করা সমীচীন হবে। প্রস্তাবিত চুক্তির ক্লজ ২.২-এ বর্ণিত প্লেস অর ডিসপাস-হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা হওয়া সমীচীন হবে। এ ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের মূল্য, পরিবহন ব্যয়, বীমা খরচ ও স্থানীয় শুল্ক করাদি বাংলাদেশ সরকার বহন করবে।

গত ২৮ এপ্রিল রাশিয়ার ‘স্পুৎনিক-ভি’ ও চীনের ‘সিনোফার্ম’ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের জন্য অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা কমিটি। কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার জানান, এই টিকা উৎপাদনে কত টাকা লাগবে, তা পরে যখন ক্রয় কমিটিতে প্রস্তাব আসবে, তখন জানা যাবে। এখন শুধু নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত