পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা হারিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। গতকাল সোমবার দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে ৩৯ মাসের ওলি সরকারের পতন হলো। শিগগিরই দেশটির প্রেসিডেন্ট নতুন সরকার গঠনের জন্য অন্য দলকে আহ্বান জানাবেন। তবে নতুন সরকার গঠনের আগে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা করোনাভাইরাসে নতুন ঢেউয়ের টালমাটাল দেশটির অবস্থা আরও বেহাল করতে পারে।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে আস্থা ভোট হয়। এতে ওলির বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১২৪টি। ৯৩ সদস্য ভোট দিয়েছেন ওলির পক্ষে। ২৭১ সদস্যের পরিষদে ভোটদানে বিরত থাকেন ১৫ জন আইনপ্রণেতা।
ভোট গণনার পর স্পিকার অগ্নি সাপকোতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি যে আস্থা ভোট চেয়েছিলেন তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।’
কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, এরপরই নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি দেশটির সংবিধানের ৭৬(২) ধারার বলে নতুন একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য দলগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন।
পার্লামেন্টে নেপালি কংগ্রেসের ৬১টি ও কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের ৪৯টি আসন রয়েছে। দুটি দলই প্রধানমন্ত্রী ওলির ওপর অনাস্থা এনেছে। এমনকি ওলির নিজের দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউনিফাইড মার্কিস্ট-লেনিনিস্ট) মাধব নেপাল-ঝালা নাথ খানালের সমর্থিত আইনপ্রণেতারা ভোটদানে বিরত ছিলেন। নেপালের জনতা সমাজবাদী দলের আইনপ্রণেতাদের একাংশ ওলির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। অবশ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকুমার দাহল ওরফে প্রচন্ডের নেতৃত্বাধীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থন প্রত্যাহার করায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল ওলির সরকার। এ কারণে ওলিকে সংসদের নিম্নকক্ষে আস্থা ভোটে যেতে হয়েছে। নেপালের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে গত বছর ২০ ডিসেম্বর ওলি প্রেসিডেন্টকে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগাম নির্বাচন ঘোষণা করলে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছিল দেশটিতে।
২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নেপালে সরকার গঠন করেছিলেন ওলি। নতুন সংবিধান গ্রহণের পর দেশটিতে তিনিই প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তার সরকারের বেশিরভাগ সময়ে চীন-ভারত দ্বৈরথের মাঝে পড়ে টালমাটাল হয়েছে কাঠমান্ডুর রাজনীতি। উত্তেজনা ছড়িয়েছে সীমান্তেও।
