মাদারীপুরের শিবচরে কাঁঠালবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকায় পদ্মা নদীতে বালুবোঝাই বাল্কহেড ও স্পিডবোটের সংঘর্ষের সময় স্পিডবোটের চালক শাহ আলম নেশাগ্রস্ত ছিল। জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়াও তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ২৩টি সুপারিশ জমা দিয়েছে। গত রবিবার বিকেলে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুনের কাছে ওই তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে বলে জানা গেছে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্পিডবোট চালানোকে দুর্ঘটনার মূল কারণ উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহ আলম নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্পিডবোট চালানোর কারণেই ২৬ জন যাত্রীর প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তদন্ত কমিটি বাংলাবাজার ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্পিডবোট চলাচল ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণও পেয়েছে। এছাড়া তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ২৩টি সুপারিশ করেছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ করা এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা। সুপারিশগুলো নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চালক শাহ আলম মাদকাসক্ত ছিল। স্পিডবোট দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল এটি। চালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্পিডবোট চালানোর কারণেই ২৬ জন মানুষ প্রাণ হারালেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ২৩টি সুপারিশ করেছে। সুপারিশগুলো নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
গত ৩ মে শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজার ঘাটে আসার পথে কাঁঠালবাড়ীতে নোঙর করা বাল্কহেডকে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি দ্রুতগতির স্পিডবোট। এতে প্রাণ হারান ২৬ জন যাত্রী। আহত হন স্পিডবোটের চালকসহ পাঁচজন। দুর্ঘটনার পর চালক মো. শাহ আলমকে গুরুতর অবস্থায় শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রশাসনের নির্দেশনায় ওই চালকের ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়। পরে তার ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শিবচর থানায় ঘাটের ইজারাদার শাহআলম খান, স্পিডবোটের দুই মালিক চান্দু মিয়া ও রেজাউল এবং চালক শাহ আলমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে। এছাড়া মাদারীপুর জেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজহারুল ইসলামকে প্রধান করে ছয় সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
