খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ক্রিটিক্যাল : ফখরুল

আপডেট : ১২ মে ২০২১, ০৪:৫৪ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো ‘ক্রিটিক্যাল’ বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এ কথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখনো ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে আছেন তিনি (খালেদা জিয়া)। যদিও আল্লাহর রহমতে অনেক ইমপ্রুভ করেছেন। রুমের মধ্যে তার অক্সিজেন লাগছে না। তার প্রেসার, টেম্পারেচার, অক্সিজেন যেটাকে স্যাচুরেশন বলে এগুলো এখন আপাততভাবে আল্লাহর হুকুমে কিছুটা নরমালের দিকে চলে এসেছে।’

 তিনি বলেন, ‘তার মূল কতগুলো বিষয় আছে যে বিষয়গুলো এখনো বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যে আছে। তার কিডনির সমস্যা আছেÑদ্যাটস এ রিয়েল প্রবলেম, তার হার্টের সমস্যা আছে। যেটা নিয়ে ডাক্তাররা এখনো অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, তারা চেষ্টা করছেন, তারা দোয়া করছেন। আমরা দলের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে এভারকেয়ার হাসপাতাল, তারা সর্বাত্মক আন্তরিকতা নিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করছে। তারা কোনো কিছু বাকি রাখছে না এমনকি তারা বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসছে প্রতিনিয়ত, দেশের বাইরেও তারা যোগাযোগ রাখছে বড় চিকিৎসকদের সঙ্গে, সেভাবে তারা এখানে চিকিৎসার চেষ্টা করেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটা আপনারা জানেন, ইভেন দি প্রাইভেট হসপিটালস আর নট প্রোপারলি ইকোইপ্ট। একমাত্র এভারকেয়ার হাসপাতাল সবচেয়ে বেশি টেকনোলজিক্যাল দিক থেকে উন্নত। তারপরও এনাফ না। ওরা নিজেরাই মনে করে যে, অনেক লিমিটেশনস আছে। সেই লিমিটেশনগুলো দেখে তখন উনার পরিবার উনাকে বাইরে নেওয়ার আবেদন করেছিল।’

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসকরা ওই সময়ে খ্বুই সংযত ভাষায় কথা বলেছেন। উনার অবস্থা ওই সময় স্থিতিশীল ছিল। হাসপাতালে আসার পর উনার পরিবার যখন বাইরে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল তখন দেশনেত্রীর অবস্থা ভেরি ডিফিকাল্ট ছিল, ইট ওয়াজ ভেরি ক্রিটিক্যাল। ডাক্তাররা পর্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। যে কারণে তারা একটা রিপোর্টও দিয়েছিলেন যে, তার অবস্থা ভেরি ক্রিটিক্যাল, আমাদের এখানে যে ব্যবস্থাগুলো আছে সেটা এনাফ নয় তার এটাকে ঠিক করার জন্য। সেজন্য তারা মনে করেছেন যে, যদি বাইরে চিকিৎসাটা নেওয়া হয় তাহলে ভালো হবে।’

 উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের আবেদনের কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার এই আবেদন করার পরপর এমনভাবে কথা বলল যে, সবাই আশাবাদী, জনগণসহ সকলে যে, দিয়ে দেবে। ওটাই আশা করে যে, একজন অসুস্থর সঙ্গে কেউ রাজনীতি করতে চায় না, দিয়ে দেবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে হঠাৎ করে তাদের টোন বদলে গেল, তারা বলে দিলেন যে, আমরা দিতে পারছি না। কেন পারছেন না সে ব্যাপারে তারা যে যুক্তিগুলো দিলেন সেই যুক্তিগুলো একেবারেই অগ্রহণযোগ্য যুক্তি, খোঁড়া যুক্তি।’

গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে মুক্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়া সরকারের দেওয়া শর্তাবলি ভঙ্গ করেননি দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘উনি যখন বাসায় কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন, একদিনের জন্য তাদের শর্ত ভঙ্গ করেননি, উনি এক দিনের জন্য ঘরের বাইরে যাননি, বাসার বাইরে যাননি। কোথাও কোনো বক্তব্য দেননি। আমরা হয়তো মাঝেমধ্যে আপনাদের বলেছি যে, উনি আপনাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তার জন্য দোয়া করতে বলেছেন। উনি কিন্তু নিজে কোন দিন এমনকি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে হাতও নাড়াননি।’

খালেদা জিয়ার আশু আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর আবারও দোয়াও চান মির্জা ফখরুল।

খালেদা জিয়া সম্পর্কে সংযত হয়ে কথা বলার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা বিএনপি চেয়ারপারসনের সমালোচনা করছেন তারা খালেদা জিয়ার পায়ের নখেরও যোগ্য নন। তারা মনে করছেন যা ইচ্ছে তাই বলে পার পেয়ে যাবেন? আপনাদের পিএইচডিসহ যোগ্যতা সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে। দেশের জনগণ আপনাদের ছেড়ে দেবে না। সময় যখন আসবে তখন তারা তাদের জবাব দেবে।’

খালেদা জিয়া সম্পর্কে সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতাদের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেসব কথা বলা হচ্ছে এগুলো শুধু অশালীন নয়, অমার্জিত এবং অগ্রহণযোগ্য। আমি আবারও বলব দয়া করে সংযত হোন, দয়া করে আপনাদের কথা একটু কমান।’

উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে সরকারি বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উনারা বলেছেন নজির নেই।  কিন্তু ১৯৭৯ সালে স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আসম আব্দুর রব জেলে ছিলেন। তাকে মুক্তি দিয়ে জিয়াউর রহমান এ আইনে তাকে চিকিৎসার জন্য জার্মানি পাঠিয়েছিলেন। এরপর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমকে ২০০৮ সালে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।’ সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আইনের খোঁড়া যুক্তি না দেখিয়ে সরাসরি বলে দিলেই পারেন যে দেব না।’

খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।’ এসময় ভাইরাল হওয়া রিপোর্টটিকে ভুয়া দাবি করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্যই বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে শুরু থেকেই সংযতভাবে কথা বলা হয়েছে। কিডনি ও হার্টের সমস্যা নিয়ে ডাক্তাররা উদ্বিগ্ন। তবে তার অবস্থা এখনো ক্রিটিক্যাল। অক্সিজেন স্যাচুরেশন নরমালে নেমে আসছে।’

বিচার ব্যবস্থায় ‘দ্বৈত নীতি’র কারণেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামিন পাননি অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘রাজনীতি থেকে দূরে রাখা এবং বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করা সরকারের লক্ষ্য। শেখ মুজিবুর রহমানও এমন ছিলেন না। তিনিও তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চিকিৎসার সুবিধা দিয়েছেন, ছেড়ে দিয়েছেন। এমনকি তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবেও সাহায্য করেছেন। কিন্তু আপনাদের (বর্তমান সরকারের) যোগ্যতা নেই। থাকলে অনেক আগেই খালেদা জিয়াকে ছেড়ে দিতেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘করোনা মহামারীর এই দুঃসময়েও ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। দোয়া করছি গোটা বিশ্ব ও গোটা জাতি যাতে করোনামুক্ত হতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত