দেশে গত দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম মাত্রায় রয়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। গত তিন দিন ধরে নতুন রোগী শনাক্ত হার সাত শতাংশের নিচে রয়েছে, যা গত দুই মাসের মধ্যে প্রথম। শনাক্ত হার প্রথমবার সাতের নিচে নামে গত ১৫ মে। ওইদিন ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়, যা ছিল তার আগের ৬৩ দিন বা দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনি¤œ শনাক্ত হার। এর আগে সর্বশেষ গত ১৩ মার্চ এরচেয়ে কম ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
গত মার্চের প্রথম থেকে শুরু হওয়া করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ কমতে শুরু করে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে। শনাক্ত হার কমতে কমতে গত ২৯ এপ্রিল প্রথমবার ১০ শতাংশের নিচে নামে। এরপর গত ১১ মে পর্যন্ত এই হার ৮-১০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। ১২ মে শনাক্ত হার প্রথমবার ৮ শতাংশের নিচে নামে এবং গত ১৫ মে তা আরও কমে সাতের নিচে নামে। তারপর গত তিন দিন ধরে তা সাত শতাংশের নিচেই রয়েছে। এই তিন দিনের মধ্যে শনাক্ত হার সবচেয়ে নিচে নামে গত রবিবার। ওইদিন ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কমতে শুরুর পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম শনাক্ত হার।
এর আগে গত বছরের মার্চ থেকে শুরু হওয়া করোনার প্রথম ঢেউ কমতে কমতে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সর্বনি¤œ অবস্থায় পৌঁছে। শনাক্ত হার সর্বনিম্ন দুই শতাংশে নামে। কিন্তু মার্চের প্রথম দিন থেকেই সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করে। টানা ৪০ দিন ধরে সংক্রমণ বাড়তে বাড়তে শনাক্ত হার ২৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। গত ৯ এপ্রিল ২৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়, যা করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সর্বোচ্চ শনাক্ত হার। গত প্রায় এক মাস ধরে সংক্রমণ আবার কমতে কমতে ৭ শতাংশের নিচে নামল।
এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৬৯৮ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংস্থাটির নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে দেশে আরও ৩২ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যা গত ৫ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদিন মৃতদের ২৪ জনই পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং ২১ জন ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।
গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪৩৫তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ৪৬৬টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন একটিসহ ৩৭টি জিন-এক্সপার্ট, নতুন ছয়টিসহ ৩০১টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১২৮টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১০ হাজার ৫০৯ জনের। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১০ হাজার ৩৪৭ জনের, যার মধ্যে ১ হাজার ৪৭টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৫৭ লাখ ১৮ হাজার ৬৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ৮৫৭ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১২ হাজার ১৮১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৬ ও সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৬০ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২৩ ও নারী ৯ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮২০ পুরুষ ও ৩ হাজার ৩৬১ নারী মৃত্যুবরণ করেছে। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭২ দশমিক ৪১ ও নারী ২৭ দশমিক ৫৯ ভাগ। এদিন সর্বোচ্চ ২১ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। বাকিদের মধ্যে সিলেটে ৩, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় ২ জন করে এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৭, ৫১-৬০ বছরের ৭, ৪১-৫০ বছরের ৪, ৩১-৪০ বছরের ৩ এবং ২১-৩০ বছরের ছিলেন ১ জন। এদিন ১৯ জন সরকারি হাসপাতালে, ১১ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ২ জন বাসায় মারা গেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২২৮ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৮২৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৭ হাজার ৬২৭ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছে ৪৪ হাজার ৫০৩ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১১ হাজার ৯৯১টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৮৬২টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ১ হাজার ১৭১টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ৩৪৮টিতে।
