ফুটবলারদের ফিটনেসে সন্তোষ জেমির

আপডেট : ১৮ মে ২০২১, ০৫:২৭ এএম

এমনিতে খেলার মধ্যেই ছিলেন ফুটবলাররা। তাই ফিটনেস নিয়ে সেভাবে ভাবনারও কিছু ছিল না কোচ জেমি ডে’র। তারপরও কাল অনুশীলনের প্রথম দিন তিনি বিশেষ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে দেখে নিতে চাইলেন শিষ্যদের অবস্থা। বিশেষ ফিটনেস টেস্ট উতরে গিয়ে কোচকে কাতার মিশনের আগে বেশ স্বস্তি এনে দিয়েছেন ফুটবলাররা। ম্যাচ ফিট ৩২ ফুটবলারকে জুনের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আগ পর্যন্ত চোটমুক্ত রাখাই এখন কোচের বড় চ্যালেঞ্জ।

১১ মে শুরু হওয়ার পরের দিনই ক্যাম্প স্থগিত হয় ঈদের জন্য। ছুটি শেষে রবিবার ৩২ ফুটবলার যোগ দেন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আবাসিক ক্যাম্প। সেদিন বিকেলে হোটেলে দলের সবাই করোনার পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন। তার ফল পাওয়ার আগেই গতকাল সকালে অনুশীলন শুরু করেছেন কোচ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কভিড-১৯ পরীক্ষার ফল হাতে আসেনি ফেডারেশনের।

প্রথম দিন ফুটবলারদের ফিটনেস টেস্ট শেষে কোচ বলেন, ‘ওরা সবাই পেশাদার। নিজেরাই নিজেদের খেয়াল রাখে। খাবারের ব্যাপারেও আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি সচেতন। ছেলেদের যে পর্যায়ে পাওয়া দরকার ছিল সেই পর্যায়েই পেয়েছি। আমাদের হাতে তিন সপ্তাহ সময়। এর মধ্যে ম্যাচ ফিটনেসটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

দলের সবাই লিগে সর্বোচ্চ চার ম্যাচ খেলে জাতীয় দলের ক্যাম্পে এসেছে। মাঝখানে পরিবারের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটিয়েছে তিন দিন। কোচ বলেন, ‘ছেলেদের অবস্থা জানতে ইয়োইয়ো টেস্ট করানো হয়। তিন দিনের বিরতি ছিল। আগামী পাঁচ দিন ফিটনেস নিয়ে খানিকটা কাজ হবে বল প্র্যাকটিসের পাশাপাশি। এরপর স্কোয়াড ২৫ জনে নামিয়ে আনা হবে। ৩ জুন আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের জন্য, তারপরও ১২ দিন সময় থাকবে।’

ইনজুরির কারণে রাইটব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষ ক্যাম্পে যোগ দেননি। তার জায়গায় নতুন করে কাউকে ডাকবেন না বলে জানালেন জেমি, ‘নতুন কাউকে নেওয়ার পরিকল্পনা এখন নেই। যারা আছেন তাদের নিয়েই আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। আমি মনে করি তারাই যথেষ্ট।’ প্রথম দিন দলের বড় সমস্যা গোল সংকট নিয়ে বেশি কাজ করার কথাও বলেছেন কোচ। ভারত থেকে অস্ত্রোপচার করিয়ে দেশে ফেরা প্রধান স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন নেই দলে। গোলের দায়িত্বটা ফরোয়ার্ডদের পাশাপাশি মিডফিল্ডারদেরও দিতে চান জেমি, ‘আমরা চাই ছেলেরা অনুশীলনে বেশি বেশি গোল করুক। তাতে তাদের গোলের অভ্যাস তৈরি হবে। সেটা তারা মূল ম্যাচে প্রয়োগ করতে পারবে। প্রয়োজনের সময় যেন ঠিকঠাক শট নেয় সেটাই তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। বক্সের বাইরে থেকে আমাদের শট নেওয়ার প্রবণতা কম। যদি সুযোগ আসে, ছেলেরা যেন সেটা কাজে লাগায় এটাই বেশি অনুশীলন করানো হবে।’

৩ জুন আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর ৭ জুন বাংলাদেশ খেলবে ভারতের বিপক্ষে। ১৫ জুন শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ওমান। এই তিন ম্যাচেই জেমি চান ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে নামতে। খেলার আগেই হেরে যাওয়ার মানসিকতা দূর করার দীক্ষাই বারবার শিষ্যদের দিচ্ছেন তিনি, ‘তিনটি দলই র‌্যাংকিংয়ে আমাদের চেয়ে এগিয়ে। ম্যাচগুলো অবশ্যই কঠিন আমাদের জন্য। জানি সেরাটা না দিতে পারলে জেতা যাবে না। এ নিয়ে গতকালও কথা বলেছি। সবাইকে ইতিবাচক লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুত হতে হবে। জিততে হলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভালো ফুটবল খেলতে হবে। নিখুঁত ম্যাচ খেলতে পারলে জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে আমাদের। তিন ম্যাচ থেকে আমরা চাইব সর্বোচ্চসংখ্যক পয়েন্ট পেতে। ছেলেরা কঠোর পরিশ্রমের প্রতিজ্ঞা করেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত