৪ জেলায় বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ০৩:৪৭ এএম

নেত্রকোনা, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল ও কুমিল্লায় গতকাল মঙ্গলবার বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে নেত্রকোনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বিকেলে পৌনে ৩টার দিকে বজ্রপাতে খালিয়াজুরীতে তিনজন, মদন ও কেন্দুয়া উপজেলায় দুজন করে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। সাতজনই ক্ষেতে কৃষিকাজ করছিলেন বলে জানিয়েছে।

নিহতেরা হলেন, খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের অছেক মিয়া (৩২), একই গ্রামের বিপুল মিয়া (২৮) ও বাতুয়াইল গ্রামের মনির (২৮)। কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের বৈরাটী গ্রামের মো. বায়েজিদ মিয়া (৪২) ও কান্দিউড়া ইউনিয়নের কু-লী গ্রামের মো. ফজলুর রহমান (৫৫)।

এছাড়া মদন উপজেলার পশ্চিম ফতেপুর গ্রামের হাফেজ মো শরীফ (১৮), একই গ্রামের আতাবুর রহমান (১৯)।

মদন উপজেলায় বাস্তা গ্রামের ভিক্ষু মিয়ার স্ত্রী কণা (৪৫) ও চন্দন মিয়ার স্ত্রী সুরমা আক্তার আহত হয়ে মদন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ফরিদপুরের দুই উপজেলাতে বজ্রপাতে নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, পৌরসভার পশ্চিম গঙ্গাবর্দী, মোল্লা ডাঙ্গী মহল্লায় ও মধুখালী উপজেলার চাঁদপুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, ফরিদপুর পৌরসভার মোল্লাডাঙ্গী মহল্লায় আনোয়ারা বেগম (৩৮), কৃষক কবির মোল্লা (৪৮), সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কৃষক দুলাল খান (৫৮), মধুখালী উপজেলার চাঁদপুরের কৃষক কবির শেখ (৪০)।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি এম এ জলিল জানান, বজ্রপাতে সদর উপজেলার মোল্লাডাঙ্গী গ্রামের কাবুল শেখের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গঙ্গাবর্দী মহল্লার কৃষক কবির মোল্লা ও নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের দুলাল খান মারা গেছেন।

মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. কবির সরদার জানান, উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দা কবির শেখ বাড়ির পাশের একটি মাঠে কাজ করছিলেন। বজ্রপাতে আহত কবির শেখকে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বজ্রপাতে কহিনুর বেগম (৩৬) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধায় উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের চিতেশ্বরী টান পলাশতলী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেন আজগানা ইউনিয় পরিষদের নারী সদস্য আলেয়া ভুইয়া।  কহিনুর বেগম ওই গ্রামের মো. লতিফ মিয়ার স্ত্রী বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় কহিনুর বেগম বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন। ওই সময় আকাশে মেঘ ডাকা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে বজ্রপাতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল বেলা ১১টায় তাকে গ্রামীণ কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দের চর ইউনিয়নের সিতারামপুর গ্রামের এক ব্যক্তি বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। তার নাম মোঃ আব্দুল মোমেন (৩০) সিতারামপুর গ্রামের তফাজ্জল হোসেনের ছেলে। 

গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির পাশের মাঠ থেকে নিজের পালিত ছাগল আনতে গেলে বজ্রপাতের শিকার হন তিনি। বজ্রপাতে গুরুতর আহত অবস্থায় মোমেনকে হোমনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বজ্রপাতের শিকার হয়ে আব্দুল মোমেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন হামনা উপজেলার চান্দের চর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল বাশার মোল্লা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত