‘প্রেমিকাকে’ বিয়ে করেই বর ছুটলেন দ্বিতীয় বিয়ে করতে!

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ০৪:০৬ এএম

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা বাজারপাড়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম রায়হান (২৫) এক দিনে দুই বিয়ে করেছেন। গত সোমবার দুপুরে চাপের মুখে তিনি প্রথমে প্রেমিক দাবি করা তরুণীকে বিয়ে করেন। এর কিছু সময় পর নববধূকে বাড়িতে রেখেই পূর্বনির্ধারিত বিয়ে করতে চার মাইক্রোবাস বোঝাই বরযাত্রী নিয়ে ছোটেন খুলনার উদ্দেশে। বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে অনশনরত ‘প্রেমিকাকে’ (২০) ৬ লাখ টাকা যৌতুক মিটিয়ে বিয়ে করে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন রায়হান। আর এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে রায়হানের প্রেমিকা দাবি করা তরুণীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাহজাদপুরের গালা ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাভলী খাতুনের বিরুদ্ধে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই তরুণীকে মারধর করে রায়হানের বাড়ি থেকে লাভলী তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছে গ্রামবাসী। রায়হানের সঙ্গে তরুণীর বিয়ে বানচালেরও চেষ্টা করেন লাভলী। এ ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

পোরজনা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ওসমান গণি এবং এলাকার বাসিন্দা শুভ ব্যাপারী ও মনিরুল ব্যাপারী জানান, গত সোমবার রায়হানের সঙ্গে খুলনা জেলার এক মেয়ের বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারি বিধিনিষেধের মধ্যেই রায়হানের বাড়িতে শুরু হয় বিয়ের উৎসব। বিয়ের প্যান্ডেল ও বরের আসন নির্মাণ সম্পন্ন হয়। উচ্চশব্দে বাজানো হয় গান। বিয়েবাড়িতে ছিল আমন্ত্রিত অতিথিদের ভিড়। এরই মধ্যে রবিবার রাতে বিয়ের দাবিতে রায়হানের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করে এক তরুণী (২০)। রায়হানের বাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। এ নিয়ে উভয়পক্ষে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। রাতভর চলে দেনদরবার। যা চলে সোমবার দুপুর পর্যন্ত। অবশেষে ছয় লাখ টাকা যৌতুক মিটিয়ে নয় লাখ টাকা দেনমোহরে রায়হানের সঙ্গে ওই তরুণীর বিয়ে সম্পন্ন হয়। পোরজনা ইউনিয়নের কাজী মো. রিপন এ কাবিন সম্পন্ন করেন। এর কিছুক্ষণ পর রায়হান নববধূকে বাড়িতে রেখেই চারটি মাইক্রোবাসে দ্বিতীয় বিয়ে করতে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন।

রায়হানের প্রথম স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী লাভলী খাতুন বলেন, ‘আমি কাউকে মারধর করিনি। দুপক্ষের মারামারি ঠেকাতে গিয়ে আমিও মার খেয়েছি।’

আর রায়হানের প্রথম স্ত্রী ওই তরুণী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এক বছর আগে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে নারায়ণগঞ্জ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনে রায়হান ও আমার মধ্যে একসঙ্গে কাজের সুবাদে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি রায়হান আমাকে খাগড়াছড়ি বেড়াতে নিয়ে যায়। সেখানে আমরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে রাত কাটাই। বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার আমার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করে। খাগড়াছড়ি থেকে ফিরে এসে সে বাড়িতে চলে আসে। মোবাইলে কথা হলে সে জানায় দ্রুত ফিরে গিয়ে আমাকে বিয়ে করবে। পরে আমি লোকমুখে জানতে পারি যে খুলনার এক মেয়েকে বিয়ে করছে। আমি ছুটে এসে রায়হানের সঙ্গে দেখা করি। সে আমাদের সম্পর্ক অস্বীকার করে। আমি নিরুপায় হয়ে বিয়ের দাবিতে রায়হানের বাড়িতে অবস্থান নিই।’

এ প্রসঙ্গে শাহজাদপুর থানার এসআই আসাদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ কেউ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত