অর্থবছরের প্রথম ৯ মাস

সঞ্চয়পত্রে নিট ঋণ ৩৩ হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ২০ মে ২০২১, ০৬:২৬ এএম

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই থেকে মার্চ) সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের নিট ঋণ হয়েছে ৩৩ হাজার ২০ কোটি টাকা, যা এ খাতের ঋণের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ৬৬ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের পুরো সময়ে সরকারের সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার কোটি টাকা।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৮৫ হাজার ৯৯০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার। সুদ-আসল বাবদ গ্রাহকদের শোধ করা হয়েছে ৫২ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। এ হিসাবে নিট ঋণের পরিমাণ ৩৩ হাজার ২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

সর্বশেষ গত মার্চ মাসে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে নতুন করে ১০ হাজার ৭৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এই সময়ে আগে কেনা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল পরিশোধে সরকার ব্যয় করে ৬ হাজার ৮৭১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। নিট ঋণ হয় ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। গত ফেব্রুয়ারিতে এ খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ এসেছিল ৩ হাজার ৬০৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকে আমানতের সুদহার কম হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন সঞ্চয়পত্র বেছে নিচ্ছে। এ কারণে অনলাইন সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে অনেক শর্ত পালন করেও সঞ্চয়পত্র কেনা বাড়ছে।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়ার কারণ সম্পর্কে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, আমানত রেখে এখন বেশি সুদ বা মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে না। গত বছরের এপ্রিল থেকে আমানতের সুদ সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ। অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রে মুনাফা প্রায় ১১ শতাংশ।

সঞ্চয় কর্মকর্তারা জানান, প্রতি মাসে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের ঋণও যেমন হয়, তেমনি আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বা মূল পরিশোধ করায় কিছু ঋণ কমে আসে। বিক্রির ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়।

জাতীয় বাজেটে ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎসাহের মধ্যে অন্যতম সঞ্চয়পত্র। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। বিশাল ঘাটতি মেটাতে এবার সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছিল সরকার।

জানা গেছে, সঞ্চয়পত্রের বিক্রির চাপ কমাতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্রে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া এখন ব্যাংক হিসাব ছাড়া সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ নেই। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা ও ব্যাংকের আমানতের সুদহার কম হওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০১৫ সালের ২৩ মের পর থেকে এ হার কার্যকর রয়েছে। এর আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ছিল ১৩ শতাংশেরও বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত