সদ্যবিদায়ী যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির ৫০ এর বেশি অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষকদের একাংশ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির একাংশের উদ্যোগে প্রেসক্লাব যশোরে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন।
এ সময় তিনি বলেন, উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন তিন বছর ১১ মাসে শিক্ষক, কর্মচারী নিয়োগ, বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি ও এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে স্থানান্তর, ভবন নির্মাণে অনিয়ম, অনুমোদনবিহীন বিভাগ চালুসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে নিজে লাভবান হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
তিনি আরো বলেন, উপাচার্য পদে থাকায় তিনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। কিন্তু এখন তিনি ওই পদে না থাকায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ড. আব্দুর রউফ, কোষাধ্যক্ষ ড. সাহেদুর রহমান, সদস্য কিশোর কুমার, ড. ফরহাদ বুলবুল, সুমন রহমান, ড. হুমায়ুন কবীর উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়ী উপাচার্য ড.আনোয়ার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, অল্প কিছু শিক্ষক মিলে এ অভিযোগ করেছেন সংবাদ সম্মেলনে। মূলত তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতাকারী যশোর শহরের একটি পক্ষ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেন। তাদের সঙ্গে কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির সভাপতিসহ অধিকাংশই ছিলেন না।
তিনি বলেন, তারা যে অভিযোগ করছেন তার মধ্যে অনেক প্রকল্পের কাজ চলমান। শেষ হতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগবে। সেখানে অনিয়ম-দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই।
নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে ড. আনোয়ার বলেন, তারা যেটাকে অনিয়ম বলছেন সেটা মোটেও নয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ কার্যক্রমে লোকবলের অভাবে লেকচারারদের নিয়ে রিকমান্ডিং কমিটি করা হয়।
সাবেক এ উপাচার্য বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে হলে পূর্ণাঙ্গ উপাচার্য দিতে হবে।
প্রসঙ্গত গত ১৯ মে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বিদায় নেন।
