সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে গ্রেগ চ্যাপেলের খারাপ সম্পর্কের কথা সবার জানা। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ভারতে কোচিং করাতে এসে দল থেকে সৌরভকে ছেঁটে ফেলেছিলেন। তারপর বিতর্ক এবং বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর চাকরি যায় তার।
সেই সব বিতর্ক ২০০৭ সালেই শেষ হতে পারত। কিন্তু তা হয়নি। তৎকালীন ভারতীয় অধিনায়কের ওপর এখনো ক্ষুব্ধ গ্রেগ চ্যাপেল। অধিনায়ক সৌরভের সমালোচনা করে এক অনলাইন আড্ডায় তিনি বলেছেন, ‘সৌরভই প্রথম কোচিং করানোর কথা বলেছিল আমাকে। অন্য প্রস্তাব থাকলেও আমি তাই ভারতকে বেছে নিয়েছিলাম। আসলে ক্রিকেটপাগল এমন একটা দেশকে কোচিং করানোর সুযোগ ছেড়ে দিতে মন সায় দেয়নি। প্রথম দুই বছর সময়টা খুবই কঠিন ছিল। মারাত্মক প্রত্যাশা ছিল। এদিকে সৌরভকে অধিনায়ক রাখা নিয়ে তীব্র সমস্যা তৈরি হয়েছিল। আসলে ও বেশি পরিশ্রম করতে চাইত না। নিজের ক্রিকেটের উন্নতিও করতে চাইত না। ও শুধু চাইত অধিনায়ক থাকতে, যাতে সবকিছু ওর নিয়ন্ত্রণে থাকে।’ সৌরভের সমালোচনা করলেও গ্রেগ কিন্তু দ্রাবিড়ের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘ভারতকে বিশ্বের সেরা দল বানানোর পেছনে দ্রাবিড়ের বড় ভূমিকা ছিল। কিন্তু সবার সেটা ছিল না। দলে কীভাবে টিকে থাকবে, শুধু সেটাই ভাবত। নতুনদের নেওয়ার ব্যাপারে দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা মাঝেমধ্যেই প্রতিবাদ জানাত। কারণ ওরা জানত ওদের দিন শেষ হয়ে আসছে। সৌরভকে বাদ দেওয়ার সময় অনেকে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল। ওরা বুঝতে পেরেছিল যে সৌরভকে বাদ দেওয়া হয়েছে মানে ওদেরও এক দিন বাদ দেওয়া হবে। সৌরভ না থাকার সময়ে ১২ মাস দারুণ কেটেছিল। কিন্তু সৌরভ ফিরতেই প্রতিবাদ শুরু হয় দলের ভেতরে। অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটারই তখন প্রশ্ন তোলে সৌরভের ফেরার কথা ছিল না। তা সত্ত্বেও তিনি দলে ফিরেছেন কী করে? এরপরই একে একে ক্রিকেটারদের আস্থা হারাতে থাকি। দলের মধ্যে এই নিয়ে বিভাজনও তৈরি হয়। আমি আর চাপ নিতে পারছিলাম না। তাই বোর্ড নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিলেও আমি সই করিনি।’
