ফিলিস্তিন সংকট

যুদ্ধবিরতি চায় হামাস

আপডেট : ২১ মে ২০২১, ০৪:২৯ এএম

ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের ১২তম দিনে এসে যুদ্ধবিরতি চাইল ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। গতকাল বৃহস্পতিবার সংগঠনটির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেছেন, দুই-এক দিনের মধ্যেই যুদ্ধবিরতিতে একমত হবে উভয় পক্ষ। যদিও এর আগের দিনই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, তার দেশে শান্তি না ফেরা অবধি গাজায় হামলা অব্যাহত থাকবে। নেতানিয়াহুর ঘোষণা মতোই গতকালও  দুই পক্ষ থেকেই হামলা অব্যাহত ছিল। এর মধ্যে হামাসের এক শীর্ষ নেতা দিলেন যুদ্ধবিরতির আশ্বাস।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া নতুন এই সংঘাতে দুই পক্ষেরই অন্তত আড়াইশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দুই হাজারের বেশি। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বনেতাদের আহ্বান কানে না তুলেই হামলা-পাল্টাহামলা চালিয়ে যাচ্ছে দুই পক্ষই।  

বিবিসি জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার গাজায় হামাসের নানা স্থাপনার ওপর অন্তত ১০০ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামাস ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে রকেট হামলা করে এর জবাব দিয়েছে।

২০১৪ সালের যুদ্ধের পর গত ১০ দিনে ইসরায়েলি হামলার সবচেয়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছে ফিলিস্তিন। দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানো এ সংঘাতে ১০০ নারী-শিশুসহ অন্তত ২১৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে হামাসের ছোড়া রকেটে ইসরায়েলে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে। সংঘাত ছড়িয়েছে ফিলিস্তিন অধ্যুষিত পশ্চিমতীরেও। সেখানেও নারী-শিশুসহ নিহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। এই সংঘাতে গাজার অন্তত পাঁচ হাজার ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উদ্বাস্তু হয়েছে অন্তত ৫৮ হাজার ফিলিস্তিনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে এবারের ঘটনার সূত্রপাত পূর্ব জেরুজালেমে। আরব অধ্যুষিত এ শহরের কেন্দ্রে রয়েছে আল আকসা মসজিদÑ মুসলমানদের কাছে মক্কা ও মদিনার পর সবচেয়ে পবিত্র স্থান। কয়েক সপ্তাহ ধরেই মসজিদের আশপাশে ফিলিস্তিনি ও ইহুদি যুবকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ শহরের শেখ জাররা এলাকায় কয়েক ঘর আরব পরিবারকে তাদের দীর্ঘদিনের পুরনো আবাসস্থল থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা চলছিল। তার প্রতিবাদে আরবরা সংগঠিত হওয়া শুরু করে, হামাসও জানিয়ে দেয় শেখ জাররা থেকে আরবদের বহিষ্কার করা হলে তারা বসে থাকবে না। এর জন্য ইসরায়েল সরকারকে তারা ১০ মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আলটিমেটাম দেয়। ইসরায়েল তার তোয়াক্কা না করলে গাজা থেকে একঝাঁক রকেট এসে পড়ে জেরুজালেমের উপকণ্ঠসহ দক্ষিণ ইসরায়েলের কয়েকটি শহরে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে গাজায় শুরু হয় ইসরায়েলের বিমান হামলা, যে তাণ্ডবের মাত্রা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।

হামাসের রকেট ছোড়ার পর যে লড়াই এখন শুরু হয়েছে তা থামানোর জন্য জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন দূত পাঠিয়েছেন ইসরায়েলে। দু’দিন আগে তিনি প্রথম টেলিফোন করেছেন ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসকেও। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, হামাসের সঙ্গে কথা বলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কাতারকে মধ্যস্থতা করতে বলা হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে মিসর ও জর্ডানকে সঙ্গে নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে ফ্রান্স। তাতে বলা হয়েছে, সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা খুব সামান্যই সফল হয়েছে।

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ২২৭ জন নিহত হয়েছে। হামাস অবশ্য তাদের যোদ্ধাদের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। হামাসের হামলায় ইসরায়েলে দুই শিশুসহ ১২ জন নিহত হয়েছে। আর ফিলিস্তিন অধ্যুষিত পশ্চিমতীরে মারা গেছে অন্তত ২০ জন।

এমন অবস্থায় সংঘাতের ১২তম দিনে হামাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা মুসা আবু মারজুক লেবাননের আল মায়াদিন টেলিভিশনকে বলেছেন, ‘আমি মনে করি যুদ্ধবিরতির জন্য বর্তমানে যে চেষ্টা হচ্ছে তা সফল হবে। আমি দুই-এক দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর আশা করছি এবং যুদ্ধবিরতি হবে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে।’

মিসরের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতির বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে তবে আলোচনা এখনো চলছে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চতুর্থবারের মতো ফোন করে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে সহিংসতা কমিয়ে আনার বার্তা দিয়েছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত