বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে কেন্দ্র করে শুনলাম সব সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এই ঐক্য কতক্ষণ টিকবে? সাগর-রুনির ব্যাপারেও দেখেছিলাম দু’পক্ষ এক হয়ে রাস্তায় নেমেছিল। চার/পাঁচ দিনও যায়নি। একজন সরকারের উপদেষ্টা হয়েছেন আরও কয়েকজনকে ‘হালুয়া-রুটি’ দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি আয়োজিত ‘অবরুদ্ধ গণতন্ত্র, শৃঙ্খলিত গণমাধ্যম : মুক্তির পথ কী’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা হালুয়া-রুটির সন্ধানে থাকব, ততক্ষণ পর্যন্ত রোজিনা ইসলামের মতো সাহসী সাংবাদিকদের কেউ রক্ষা করতে পারবে না। এটাই বাস্তবতা।’
তিনি বলেন, ‘রোজিনা ইসলামের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা সামগ্রিক বাংলাদেশের চেহারার একটি অংশ। তিনিই একমাত্র ভিকটিম নন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক সাংবাদিকদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন নেমে এসেছে। সংবাদপত্রের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন নেমে এসেছে। সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের বিদেশে চলে যেতে হয়েছে। এমনকি হত্যাও করা হয়েছে। রোজিনা ইসলামকে বাহবা জানাই তিনি অনেক ঝুঁকি নিয়ে অনেক তথ্য প্রকাশ করেছেন। আজকে তার ওপর নির্যাতনের পরও নতি স্বীকার করেননি, তিনি বলেছেন আমার ওপর অন্যায় করা হচ্ছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সেটি হলো এখানে এমন একটা সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের কোনো বক্তব্য থাকবে না। ভিন্নমত পোষণ করার উপায় থাকবে না। তথাকথিত উন্নয়নের নামে লুটপাট-ডাকাতি চালিয়ে যেতে থাকবে। প্রথমেই তারা সংবিধান কেটে-ছিঁড়ে তাদের মতো করে নিয়েছে। গণমাধ্যমে তাদের দুর্নীতিগুলো যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্য গণমাধ্যমের ওপর আঘাত করেছে। আমরা দেখেছি, মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমান, রুহুল আমীন গাজী, সংগ্রামের সম্পাদককে কীভাবে নির্যাতিত-কারারুদ্ধ করা হয়েছে। আজকে একদিকে যেমন সংবাদপত্রের ওপর আঘাত আসছে তেমনি যারা জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলে তাদের ওপরও আঘাত আসছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আওয়ামী লীগের মতো একটি দল যাদের একসময় জনগণের ভিত্তি ছিল, জনগণের অধিকারের জন্য আন্দোলন করেছে, তাদের কাছে এখন জনগণ কেউ নয়। তারা জনগণের পাশেও নেই। তাদের এখন কাজী জেবুন্নেসার মতো আমলা, অথবা পুলিশ-র্যাব সম্প্রদায়কে নিয়ে টিকে থাকতে হচ্ছে। এটা একদিকে যেমন লজ্জার, আরেকদিকে ভীতিরও বটে। আজকে ফ্যাসিবাদভীতি ছড়িয়ে সমগ্র দেশকে অন্ধকারের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সেই ফ্যাসিবাদীদের পতন ঘটাতে হবে। আজ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং মুখোমুখি হওয়া ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প পথ নেই।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কখনো আপস করেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তো কখনো সংবাদপত্রগুলোকে সোচ্চার হতে দেখিনি যে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। কেন হয়নি হয়তোবা ধরে নিয়েছেন আমার ওপরে এখনো আসেনি। এখন আপনাদের ওপরে এসেছে। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানও বাদ পড়েননি। হত্যা মামলা হয়েছে। মাহফুজ আনামের মতো সম্পাদককেও ১২৫টা মামলা নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়। ফ্যাসিজম যখন আসে, কেউ রক্ষা পায় না। এটাই বাস্তবতা।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনায় বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আরও বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিইউজের একাংশের সাবেক সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, ডিইউজের একাংশের বর্তমান সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান প্রমুখ।
