চিকিৎসা করাতে গিয়ে করোনা পরিস্থিতিতে ভারতে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের ফেরা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে আরও ১১ জন ফিরেছেন।
এদিকে অভিযোগের মুখে গতকাল সকাল থেকেই এ চেকপোস্ট দিয়ে ফেরা বাংলাদেশিদের করোনার অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভারতফেরতদের করোনা পরীক্ষা না করায় সংক্রমণের আশঙ্কায় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। গতকাল আসা সব যাত্রীর র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট ও আরটিপিসিআর পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আর বৃহস্পতিবার আসা ২১ জনের মধ্যে ১৭ জনের নমুনা নেয় কর্র্তৃপক্ষ। তবে গত বুধবার আসা ৩৭ জনের কারও পরীক্ষা বা নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি।
হিলির উত্তর বাসুদেবপুর এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম জানান, করোনার ভারতীয় ধরনে দেশটিতে মানুষ ব্যাপকহারে আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছে। ফলে ভারত থেকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দেয়। কারণ, কোনো পরীক্ষা করা ছাড়াই তাদের জনবসতির মধ্যে অবস্থিত আবাসিক হোটেলে রাখা হচ্ছিল। এদের অনেকেই সুযোগ বুঝে নিচে নেমে অন্যদের মতো দোকানে দোকানে ঘুরে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী কিনছিলেন। এখন আগত যাত্রীদের পরীক্ষার ফলে আক্রান্তদের আলাদাভাবে আইসোলেশনে রাখা হবে। সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেক কমে গেল।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গাদ্দাফি শিকদার জানান, নির্দেশনা না থাকায় প্রথম দিন ভারতফেরতদের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। নির্দেশনা পাওয়ার পর আজ (গতকাল) আসা ১১ জন ও বৃহস্পতিবার আসা ২১ জনের মধ্যে ১৭ জনের অ্যান্টিজেন টেস্ট ও আরটিপিসিআর টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অ্যান্টিজেন টেস্টে কভিড পজিটিভ এলে, তাদের আরটিপিসিআর টেস্ট করা হচ্ছে না। নেগেটিভ এলে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গত বুধবার আসা ৩৭ জনকে স্থানীয় তিনটি আবাসিক হোটেলে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে কারও করোনার উপসর্গ দেখা দিলে, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত কারও করোনা পজিটিভ আসেনি বলে জানান তিনি।
এদিকে তৃতীয় দিনের মতো গতকাল হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন নারী-শিশুসহ ১১ জন। ভারতের কলকাতাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে এনওসি ও ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা করা করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে তারা এসেছেন। আসার পর সীমান্তের শূন্যরেখায় স্যানিটাইজড ও তাপমাত্রা পরিমাপের পর স্থানীয় প্রশাসন তাদের তথ্য সংগ্রহ বুথে নিয়ে আসছে। সেখানে স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং ও নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রক্রিয়া শেষে সুস্থদের স্থানীয় আবাসিক হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ওসি সেকেন্দার আলী জানান, চেকপোস্ট দিয়ে এখন পর্যন্ত ১৩৭ জন আসার অনুমতি পেয়েছেন। এরপর বুধ ও বৃহস্পতিবার ৫৮ এবং শুক্রবার ১১ জন এসেছেন। এদের মধ্যে অসুস্থ ৮ জনকে রংপুর ও দিনাজপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের হিলির তিনটি আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ভারতে আটকেপড়া বাংলাদেশি সব নাগরিককে অনুমতি পাওয়ার পর দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানান তিনি।
