করটিয়ার হাটে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে শ্রম বেচাকেনা

আপডেট : ২২ মে ২০২১, ১২:৩২ পিএম

টাঙ্গাইলের করটিয়ায় শ্রমিকের হাট। টাকা দিলেই পছন্দ অনুযায়ী মিলবে শ্রম বিক্রি করার মানুষ। দরদাম করে প্রয়োজন মতো শ্রমিক পাওয়া যায় এই হাটে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া বাজার সংলগ্ন লালপুলের মাঠে প্রতিদিন বসে এই হাট।

এখানে ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলে শ্রম বেচাকেনা।

শনিবার হাটে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার শ্রমিকদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে সহস্রাধিক নিম্নআয়ের মানুষজন শ্রম বিক্রি করতে হাটে এসেছেন। সেখান থেকে মহাজন বা মালিকরা কাজের প্রকারভেদ অনুয়ায়ী শ্রমিক বেছে নিচ্ছেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই ধান কাটার শ্রমিক। কেউ আবার গৃহস্থালি, রাজমিস্ত্রির হেলপার, কেউ অন্য কাজ করেন।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের করটিয়ায় প্রায় ৪০ বছর ধরে বসে এ শ্রমিকের হাট। প্রতিদিন এই হাটে প্রায় সহ¯্রাধিক শ্রমিক ভোর থেকে জমায়েত হন।

যে কোনো হাটেরই বৈশিষ্ট্য টাকার বিনিময়ে পণ্য বেচাকেনা। তবে এই হাটে টাকার বিনিময়ে পণ্য নয়, মানুষের শ্রম বিক্রি হয়। দীর্ঘদিন ধরে করটিয়ায় জমজমাট শ্রমিকের হাট বসলেও ক্রমেই এর পরিধি বাড়ছে।

একদিকে যেমন হাটে আসা শ্রমিকেরা কাজ খুঁজে পাচ্ছেন অন্যদিকে যে কোনো প্রয়োজনেই স্থানীয়রা তাদের সুবিধামতো শ্রমিক নিতে পারছেন। ফলে হাটে কর্মজীবীরা অপেক্ষা করছেন কখন তারা কার কাছে তাদের শ্রম বিক্রি করবেন।

ঈদের আমেজ কাটতে না কাটতে জমজমাট হয়েছে এই শ্রমিকের হাট। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকেরা আসেন। স্থানীয়রা দরদাম করে হাট থেকে কাজের জন্য শ্রমিক নিয়ে যান। তবে কারওর মধ্যে দেখা যায়নি করোনা সচেতনতা।

কথা হয় হাটে আসা কুড়িগ্রাম জেলার মালেক ও মজিদের সাথে। তারা জানান, তাদের এলাকা থেকে এখানে শ্রমিকের পারিশ্রমিক মূল্য বেশি।

‘মৌসুম উপলক্ষে প্রতিবছরই এই জেলায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে আসি। মালিকরা হাটে এসে দরদাম করে আমাদের কাজে নেয়। তিন বেলা খাওয়া ও দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার চুক্তিতে তাদের বাড়িতে গিয়ে আমরা কাজ করি।’

বগুড়া জেলার মফিজ উদ্দিন ও সিরাজগঞ্জের আলতাফ হোসেন বলেন, ভোরে করটিয়ার শ্রমিক হাটে এসেছি শ্রম বিক্রির জন্য। কয়েক মাস এ জেলায় কাজ করবো। শ্রম বিক্রি করে যে টাকা উপার্জন হয় তা বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। তবে অনেক সময় দৃষ্কৃতিদের কাছে ছিনতাইয়ের কবলে পড়তে হয়। এতে অনেক সময় তারা মোবাইল ও টাকা নিয়ে চলে যায়। কিছু বলতে পারি না।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারি জানান, দীর্ঘদিন ধরে করটিয়ায় শ্রমিকের হাট বসে। এতে স্থানীয় মানুষজন অনেক উপকার পাচ্ছেন। তবে অসহায় শ্রমিকেরা অনেক সময় দুষ্কৃতকারীদের কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়। কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত