সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। এ ছাড়া কারাবন্দি রাজনীতিবিদদের মুক্তির দাবিও জানান তারা। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘ন্যাশনাল সলিডারিটি ফর ফ্রি প্যালেস্টাইন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান তারা।
সভায় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, রাজনৈতিক ব্যক্তি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, সাবেক সচিব, সাংবাদিক, শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণির নাগরিকরা অংশ নেন। সভায় ফিলিস্তিনের নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় সংহতি জানিয়ে চিঠি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এটাই প্রকৃত কথা নয়, এ জন্য আপনাকে তাদের (ফিলিস্তিন) অর্থায়ন করতে হবে। ফিলিস্তিনিদের সামরিক অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশে ১০ হাজার লোককে সামরিক ট্রেনিং দিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে যুদ্ধে পাঠাতে হবে।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমি ফিলিস্তিনের জনগণের লড়াইয়ের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি। আমাদের লড়াইয়ের বাতি জ¦ালাতে হবে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন ধর্মীয় কথা বলে সা¤্রাজ্যবাদের পা চাটে। অনেকে সাহস করে কথা বলেন না, বলতে চান না। আমাদের আরও সাহসী হতে হবে। সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক বলেন, ‘ফিলিস্তিনে মানুষ যারা প্রতিদিন ইসরায়েলের হাতে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার, তাদের পক্ষে সংহতি জানানোর জন্যই আজকের এই প্রোগ্রামের আয়োজন। আমরা বাংলাদেশের মানুষ ফিলিস্তিনের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষে আছি। আমরা এই সভার আয়োজন করেছি নির্দলীয় ভিত্তিতে, জাতীয় আবেদনে।’
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজেকে একক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেই গাজায় এই নির্লজ্জ হত্যাকা- চালাচ্ছে। ইসরায়েল কোনো রাষ্ট্র নয়। এটা একটা যুদ্ধমেশিন। একে যুদ্ধের মাধ্যমেই শেষ করতে হবে।’
গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘অনেক বছর যাবৎ এই অন্যায় চলছে। সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই। কিন্তু এবার কিছুটা আশার আলো দেখছি। কারণ সারা বিশ্বেসাধারণ বিবেকবান মানুষ ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, এমনকি কিছু ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যানও ইজরায়েলের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।’ সাবেক সেনাবাহিনীপ্রধান লে. জে. (অব.) নুরুদ্দিন খান বলেন, ‘ইসরায়েল যে একতরফাভাবে আক্রমণ করেছে, তা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আধুনিক বিশ্বে এই জঘন্য অপরাধ চলতে পারে না।’
আমার পার্টির (এবি) নেতা মজিবুর রহমান মঞ্জুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ড. সুকোমল বড়ুয়া, সামরিক বিশেষজ্ঞ মে. জে. (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, কমরেড খালেকুজ্জামান আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী প্রমুখ।
