২০১৯ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডের ব্যস্ততা খুব একটা ছিল না বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার। ওয়ানডে সুপার লিগে এসে দু’দলের অবস্থানও প্রায় একই। বাংলাদেশের সুপার লিগ অভিযান উইন্ডিজের সঙ্গে যতটা ভালোভাবে শুরু হয়, ততটাই বাজে হয়ে যায় নিউজিল্যান্ডে। অন্যদিকে উইন্ডিজের বিপক্ষে এক সিরিজ খেলে শ্রীলঙ্কা হেরেছে তিন ম্যাচেই। তাদের পয়েন্ট শূন্য। হতাশার সিরিজ ভুলে আবারও সরাসরি ২০২৩ বিশ্বকাপের টিকেট কাটার পথে আসতে হবে দু’দলকেই। আজ থেকে মিরপুরে শুরু তিন ম্যাচের সিরিজ দু’দলের জন্যই তাই খুব গুরুত্বের। দু’দলের জন্যই কক্ষপথে ফিরে আসার। এক দিন আগের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেছিলেন, সিরিজ থেকে পূর্ণ পয়েন্ট চান তিনি। কিন্তু এ জন্য সব ফরম্যাট মিলিয়ে টানা ৯ ম্যাচ হারের মিছিলকে থামাতে হবে বাংলাদেশকে। উইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজে ৩-০তে জেতার পর দুই টেস্ট, নিউজিল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে মিলিয়ে ৬ ম্যাচ এবং শ্রীলঙ্কায় দুই টেস্টে একটিতে হার ও একটিতে ড্র করে দল। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর থেকে এমন অবনতির গ্রাফ থেকে বের হতে পারছে না বাংলাদেশ। ওই বিশ্বকাপের পর দলের সব জয়ই এসেছে নিজেদের চেয়ে নিচের র্যাংকিংয়ের দলের সঙ্গে। আগামী বিশ্বকাপে ভালো কিছু পেতে হলে নিজেদের ওপরের দলের সঙ্গে জেতার অভ্যাসে ফিরতে হবে। সেই চেষ্টাটা এই সিরিজ থেকে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডেতে আমাদের বেসিক ভালো হচ্ছে না। তবে উইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো খেলেছিল ছেলেরা। আমরা বেসিকে মনোযোগ দিতে চাই। খুব জটিল করে ভাবার কিছু নেই। বেসিক ঠিক রাখলেই হবে। এই ফরম্যাটে এটুকু করতে পারলেই সাফল্য সম্ভব।’
আগামী বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় এবার তরুণ দল এসেছে শ্রীলঙ্কার। সে তুলনায় বাংলাদেশ বেশ অভিজ্ঞ। কিন্তু বাংলাদেশের কোচের দৃষ্টিতে দুই দলের অবস্থান সমান। ব্যাটিংয়ের হিসাবে নিজ দলকে এগিয়ে রাখলেও শ্রীলঙ্কাকে বিপজ্জনক দলই মনে করেন তিনি, ‘শ্রীলঙ্কার দুই-একজন বড় খেলোয়াড় চান্দিমাল নেই, ম্যাথিউস নেই এবার। তবে তাদের হাইকোয়ালিটি খেলোয়াড় আছে কুশল পেরেরা ও কুশল মেন্ডিস। তরুণ দলটি আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পারে যা আমাদের চাপের কারণ হতে পারে। আমার ছেলেরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। টপ অর্ডার ভালো করছে। দুই ব্যাটিং অর্ডারের লড়াই দেখার অপেক্ষায় আছি।’
ডমিঙ্গোর জন্য সবচেয়ে বড় আশার কথা সাকিব আল হাসানের ফেরা। সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমানও তার বোলিং ইউনিটকে শক্তিশালউ করেছেন। তাছাড়া প্রস্তুতি ম্যাচে বাড়তি স্পিনার হিসেবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বোলিং করা দলের জন্য সুখবর বয়ে এনেছে। সাকিব-মাহমুদউল্লাহ যদি বল করতেই পারেন তাহলে বাড়তি স্পিনারের প্রয়োজন হয় না। সেক্ষেত্রে তিন সিমার খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ডমিঙ্গো। দেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভালো রেকর্ড আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে ডমিঙ্গোকে। তবুও সতর্ক থেকেই সিরিজ জয়ের আশা করছেন। তার জন্য ব্যাটসম্যানদের ভূমিকাই বেশি দেখেন কোচ। তাই ওয়ানডেতে যেমন ব্যাটিংসহায়ক উইকেট হয় আজ শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তেমন উইকেট হবে বললেন। দলের ভালো রানের জন্য উইকেটও আশা করছেন। সেই সঙ্গে বাজে ফিল্ডিংটা ভুলে যেতে চান কোচ। যথাসম্ভব ভালো ক্যাচ, ফিল্ডিংগুলোকে জ্বালানি হিসেবে নিয়ে মাঠে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চান শিষ্যদের।
ফিল্ডিং যখন বাংলাদেশের চিন্তার কারণ, শ্রীলঙ্কার জন্য এটাই শক্তির। লঙ্কান নতুন অধিনায়ক কুশল পেরেরা জানালেন, ফিল্ডিং দিয়েই সিরিজে ব্যবধান গড়তে চান। তরুণদের কাছ থেকে সেরা ফিল্ডিং দেখবেন বলে জানান। এছাড়া বাংলাদেশকে থামাতে ডেথ বোলিং নিয়ে আলাদা করে কাজ করেছেন তারা। স্পিনিং উইকেটে বিপক্ষকে কীভাবে থামাবেন সে পরিকল্পনাও রেখেছেন। পেরেরা বলেন, ‘আমরা জানি বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি স্পিন বিভাগ। তাই জানি স্পিনসহায়ক উইকেট হতে পারে। কিন্তু আমরা ডেথ বোলিং নিয়ে কাজ করেছি। জানি, বাংলাদেশ নিজের মাঠে খুব ভালো ব্যাটিং করে। আমাদের বোলাররা এই প্রক্রিয়ায় নতুন, ডেথে বল করার যত অভিজ্ঞতা হবে ততই আপনি ভালো করবেন। কিন্তু ওদের সেই অভিজ্ঞতা নেই। তবে আমরা ধৈর্য রাখছি। অনেক সময় ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই সেরাটা বের হয়।’
