এনজিও’র মাধ্যমে এসএমই ঋণ বিতরণের সুপারিশ

আপডেট : ২৩ মে ২০২১, ১১:৩৭ পিএম

দেশের বেশিরভাগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি বা সিএমএসএমই উদ্যোক্তা করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের সুফল পাননি। তাই প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ দ্রুত বিতরণে কার্যক্রর পদক্ষেপ প্রয়োজন। এছাড়া ঋণের পরিমাণ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি এসএমই ফাউন্ডেশন, পিকেএসএফসহ সরকারি-বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলোকে ঋণ বিতরণে কাজে লাগানো উচিত।

গতকাল রবিবার ‘সিএমএসএমই এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। এসএমই ফাউন্ডেশন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স বাংলাদেশ (এএফডিবি)-এর উদ্যোগে যৌথভাবে আয়োজন করা হয় এই ওয়েবিনার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি বক্তব্য রাখেন।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির ড. ফাহমিদা খান। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন সোনিয়া বশীর কবির এবং বিবি রাসেল। এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক ফারজানা খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এএফডিবি’র সভাপতি মানতাশা আহমেদ।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উন্নয়নে জেলা, উপজেলা, গ্রোথ সেন্টার ও ক্লাস্টারগুলোর উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এসএমই ফাউন্ডেশনসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থার তত্ত্বাবধানে তাদের জন্য ঋণ ও অনুদানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’ এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রবাহ এবং দক্ষতা উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনকে অধিক আর্থিক সহায়তা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়ার পক্ষেও মত দেন তিনি।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জামানতের অভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারদের যেন ঋণ পেতে সমস্যা না হয়, এজন্য ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করেছে সরকার। অনানুষ্ঠানিক খাতের দক্ষতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে কাজ করছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ। ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পেতে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের।’ এজন্য আসছে বাজেটে তাদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তিনি। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য জেলায় জেলায় এসএমই পল্লী স্থাপন করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

মূল প্রবন্ধে গবেষণা সংস্থা সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং নারী-উদ্যোক্তাদের আসছে বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।’ করোনাভাইরাসের কারণে সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের ক্ষতি নিয়ে একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের বেশিরভাগ সিএমএসএমই উদ্যোক্তা করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের সুফল পাননি। তাই প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ দ্রুত বিতরণে কার্যক্রর পদক্ষেপ প্রয়োজন।’ এছাড়া ঋণের পরিমাণ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি এসএমই ফাউন্ডেশন, পিকেএসএফসহ সরকারি-বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলোকে ঋণ বিতরণে কাজে লাগানোর পরামর্শও দেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘এসএমই উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে নীতি সহায়তা এবং বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন।’ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় আরও সদয় ও উদার হতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত