২০১৫ থেকেই ঘরের মাঠে ওয়ানডেতে দুর্বার বাংলাদেশ। মোট ১০ সিরিজের সিরিজের ৯টিতেই জয়। ২০১৫ তে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে টানা ৫ সিরিজে হারিয়েছিল মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল। এরপর ষষ্ঠ সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে হারে। এরপর গত তিন বছরে দুবার করে জিম্বাবুয়ে ও উইন্ডিজকে নিজেদের মাটিতে সিরিজে হারানোর সাফল্য আছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩৩ রানের জয়ে আরেকটি সিরিজ জয়ের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। ২০২৩ বিশ্বকাপ টার্গেট করে এমন ধারাবাহিকতা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবুও একটি জায়গায় দুশ্চিন্তা এখনো আছে বাংলাদেশের। তা হলো ৭ নম্বর ব্যাটসম্যান ও হার্ড হিটার। এই একটি জায়গায় সঠিক কাউকে খুঁজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তাই স্লগ ওভারগুলোতে বড় রানও হচ্ছে না দলের।
গত বছরগুলোতে ৫০ ওভারের ম্যাচে এই একটি পজিশনেই ১৪ ব্যাটসম্যানকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পারফেক্ট ৭ বা ফিনিশারকে পাওয়া যাচ্ছে না। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ২২ বার সুযোগ পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ২৬.৭১ গড়ে ৫৮৭ রান করেছেন এই ব্যাটসম্যান। সাব্বির রহমান সুযোগ পেয়েছেন ১২ ম্যাচ। ১৭.৯০ গড়ে করেছেন ২১৪ রান। নাসির হোসেন ৭ নম্বরে নেমে ১২ ম্যাচে ১৫.৮৭ গড়ে করেছেন ১৯০। তবে সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ। ৭ নম্বরে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন তিনি। ১১ বারে ৪৮.২৫ গড়ে করেছেন ৫৩০ রান। এছাড়া মেহেদী হাসান, সৌম্য সরকার, সাইফউদ্দিন, শেখ মাহেদী হাসান, মাশরাফী, আরিফুল হক, সানজামুল ইসলাম, নুরুল হাসান সোহান, আবুল হাসান রাজু বিভিন্ন সময়ে সাত নম্বরে ব্যাট করেছেন। কিন্তু নির্দিষ্ট করা যায়নি কাউকে।
৭ নম্বরে বাংলাদেশ দলের সবশেষ অন্তর্ভুক্তি আফিফ হোসেন। এক সিরিজ আগেই সৌম্যকে খেলিয়ে সিদ্ধান্ত বদল করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে খেলানো হয় শেখ মাহাদীকে। এবার আফিফ হোসেন কার্যকারিতার দিকে তাকিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট। নতুন দায়িত্বে প্রথম ম্যাচেই অবশ্য সফল হয়েছেন নিয়মিত টপঅর্ডারে খেলা আফিফ। ২২ বলে ২৭ রানের ক্যামিওকে বাংলাদেশকে জয়ের সংগ্রহ এনে দেন। ওই ইনিংস না থাকলে তামিম ইকবালদের জয় সত্যি কঠিন ছিল।
সাত নম্বরে স্থায়ী কাউকে না পাওয়ার আক্ষেপ আছে জাতীয় দলের সাবেক কোচ সারোয়ার ইমরানেরও। এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে সামনে তাকানোর পক্ষে তিনি। গত দুই সিরিজে দুই ব্যাটসম্যানকে খেলিয়েছে বাংলাদেশ। দেশ রূপান্তরকে অভিজ্ঞ এই কোচ বলেন, ‘৭ নম্বর পজিশনটা কিন্তু অলরাউন্ডারের জায়গা। এই পজিশনের জন্য এখন আমাদের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার আছে। কিন্তু কেউ ঠিকভাবে ক্লিক করছে না। কিন্তু তাদের সফল হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দিতে হবে। একজনকে কমপেক্ষ ৫-৬টি ম্যাচ দেওয়া উচিত। জায়গাটা নিয়ে আমাদের আরও ধৈর্য ধরা উচিত। কাল (প্রথম ম্যাচ) যেমন আফিফ ভালো করল। তাকে সময় দেওয়া উচিত। তবে আফিফ যদি ভালো না করে তবে মোসাদ্দেককে এখানে ফেরানো যেতে পারে। আবার সাইফউদ্দিনও ভালো অপশন।’
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে আরেক বড় সমস্যা হার্ডহিটার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৬৪ রান তুলেছে বাংলাদেশ। আধুনিক ক্রিকেটে ইনিংসের এই অংশে বড় রান তুলতে হার্ডহিটারের বিকল্প নেই। কিন্তু এখানে একেবারেই পিছিয়ে টাইগাররা। দেশের ক্রিকেটের কাঠামোর কারণেই হার্ডহিটার তৈরি হচ্ছে না বলে মনে করেন সারোয়ার ইমরান। তাছাড়া সেট ব্যাটসম্যান আউট হওয়াকেও দায়ী করছেন তিনি। গত বছর বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ টুর্নামেন্টটিকে উদাহরণ টেনে এ কোচ বলেন, ‘হার্ডহিটার তৈরি হওয়ার মতো ক্রিকেট আমাদের হয় না। পাকিস্তান, ভারত কিন্তু ভালো টুর্নামেন্ট আয়োজন করে। আমরা মাত্র একটি বিপিএল দিয়ে সেটা আশা করতে পারি না। গত বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপ দারুণ একটা টুর্নামেন্ট হয়েছিল। সেখানে বেশ কিছু তরুণ ক্রিকেটার উঠে এসেছে হার্ডহিটার হিসেবে, অভিজ্ঞরাও দারুণ করেছিল। এরকম টুর্নামেন্ট আরও হওয়া উচিত। আবার আমরা সেট ব্যাটসম্যান নিয়ে ১০ ওভারে যেতে পারছি না। কারণ যেমন মুশফিক-রিয়াদ ওই সময়েই আউট হলো। বিশ্বের সব বড় দলেরই শেষ ১০ ওভারে একজন সেঞ্চুরি করা বা সেট ব্যাটসম্যান থাকে। এতে রান তোলা সহজ হয়। আমরা এসব দিকে পিছিয়ে যাচ্ছি।’
